Donald Trumps AI Attack: নিশানায় খার্গ দ্বীপ, ইরানের মানচিত্রে নিজের মুখ! তেহরানের বিরুদ্ধে AI হাতিয়ার ট্রাম্পের
Donald Trumps AI Attack: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানের বেহাল অবস্থা বোঝাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরপর পোস্ট করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
Donald Trumps AI Attack: বাস্তব যুদ্ধের পরিণতি যাই হোক না কেন, ডিজিটাল যুদ্ধে ইরানকে দুরমুশ করতে কোনও খামতি রাখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হতেই এআই নির্ভর একাধিক পোস্ট ও গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি একাধিক পোস্ট করেছেন। সেখানে ইরানের তেল রপ্তানি ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে তৈলখনি খার্গ দ্বীপে হামলা প্রতিনিয়ত প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন। এমনকী পশ্চিম এশিয়ার মানচিত্রে ইরানের সীমানাকে নিজের মুখের আদলে কাটছাঁট করে একটি এআই ছবিও শেয়ার করেছেন তিনি। সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে তেহরান যে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে সোশাল মিডিয়ায় সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানের বেহাল অবস্থা বোঝাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরপর পোস্ট করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। প্রথম পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। যেখানে দেখা যায়, ইরানের মানচিত্রের জায়গায় ট্রাম্পের মুখের অবয়ব। যার মাধ্যমে ট্রাম্পের বার্তা আজ হোক বা কাল ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবজায় আসতে চলেছে। বলে রাখা প্রয়োজন, দিন কয়েক আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নাম বদল করে তা 'ট্রাম্প প্রণালী' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে যদিও তা রসিকতা বলে উড়িয়ে দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই আন্তর্জাতিক জলপথের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এবার ইরানের মানচিত্র মুছতে দেখা গেল তাঁকে।
পাশাপাশি আরও একটি পোস্টে জ্বলন্ত খার্গ দ্বীপের ছবি তুলে ধরেন ট্রাম্প। যার ক্যাপশনে লেখেন, 'বাই বাই খার্গ।' ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র এই খার্গ দ্বীপ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের সেই তেল কাঠামোর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটি যুদ্ধবিমান। গোটা দ্বীপে আগুন জ্বলছে, বিস্ফোরণ হচ্ছে। অর্থাৎ মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়েছে দ্বীপটি। দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপের উপর নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের। এমনকী একটা সময় শোনা যাচ্ছিল এই দ্বীপে সেনা নামাবেন ট্রাম্প। এছাড়াও ট্রাম্পের পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী যান চলাচলে আর কোনও সমস্যা নিয়ে। ওই অঞ্চলে পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। এদিকে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য ও অর্থনীতি। ট্রাম্প লেখেন, ২০২৫ সালে ইরান দিনে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, ২০২৬-এ তা প্রায় শূন্যে নেমে গিয়েছে। পরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও রয়েছে ওই চার্টে। নৌ অবরোধের জেরে এই অবস্থা বলে দাবি ট্রাম্পের। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, গত বছর ডলার পিছু রিয়ালের দাম ছিল ৯ লক্ষ। বর্তমানে তা ২২ লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছ। ডলারের তুলনায় দ্রুত কমছে রিয়ালের দাম।
তবে ওয়াশিংটনের এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও সাইবার আগ্রাসনের মুখে বিন্দুমাত্র মাথা নোয়াতে নারাজ ইরান। মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তাই ফের হামলা চালানোর কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে তেহরান। ইরানের সংসদীয় স্পিকার তথা প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়ার যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে।' অর্থাৎ ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার উপর কোনও আগ্রাসন নেমে এলে তার দ্রুত ও কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন, আগামী দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি 'নিষিদ্ধ অঞ্চল' তৈরি করবে তেহরান। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা থেকে শুরু হতে চলা এই নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। তাহলে তাঁকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত, ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পারদ চড়ছে।
E-Paper

