Drone Attack on Ship with Indian Sailors: হরমুজ প্রণালীর কাছে ভারতীয় নাবিক-সহ এলপিজি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা
রবিবার পূর্বমুখী পথে যাওয়ার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি আল মারিয়াহ’ নামের জাহাজটি ড্রোনের আঘাতের শিকার হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে হামলার জেরে জাহাজটির বড় ধরনের কোনও ক্ষতি হয়নি। জাহাজের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং প্রধান ইঞ্জিন এখনও সচল রয়েছে।
Drone Attack on Ship with Indian Sailors: হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার পূর্বমুখী পথে যাওয়ার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি আল মারিয়াহ’ নামের জাহাজটি ড্রোনের আঘাতের শিকার হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে হামলার জেরে জাহাজটির বড় ধরনের কোনও ক্ষতি হয়নি। জাহাজের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং প্রধান ইঞ্জিন এখনও সচল রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদে খোর ফাক্কানে নোঙর করে রয়েছে।
সমুদ্রপথের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের সামুদ্রিক প্রশাসন দফতর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় জাহাজটিতে মোট ১৯ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর প্রত্যেকেই নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় নাবিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে পারস্য উপসাগরে বর্তমানে ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক জাহাজ রয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভারতীয় পতাকাবাহী ৬টি জাহাজ এবং বিদেশি পতাকাবাহী আরও ৭টি জাহাজ রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে ভারতের স্বার্থ জড়িত। এই জাহাজগুলিতে মোট ১৪৫ জন ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৯টি জাহাজকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জাহাজগুলির মধ্যে ৭টি সার বহনকারী জাহাজ রয়েছে। বাকি ২টি জাহাজও ভারতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই জাহাজগুলিকে দ্রুত নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু ‘এমটি আল মারিয়াহ’-কে ঘিরেই উদ্বেগ নয়। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ৪টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে, যেগুলিতে ভারতীয় নাবিকরা কাজ করছিলেন, এমন ৫৮টি ঘটনারও খবর পাওয়া গিয়েছে।
এই সমস্ত ঘটনায় মোট ১০ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ১২ জন আহত হয়েছেন। আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও সেই মৃত্যুর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
তবে রবিবার নতুন করে ভারতীয় জাহাজ বা ভারতীয় নাবিকদের সঙ্গে যুক্ত কোনও বড় ধরনের নিরাপত্তা বা পরিচালন সংক্রান্ত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতির উপর এখনও ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে ড্রোন হামলা বা সামুদ্রিক নিরাপত্তার অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদে জাহাজ চলাচল এবং ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


