সংঘর্ষের মাঝেই কেঁপে উঠল ইরান! 'সিসমিক বম্ব' নাকি 'নিউক্লিয়ার টেস্ট'? জোর চর্চা

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে।

Published on: Mar 3, 2026, 16:56:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

যুদ্ধ, সংঘর্ষ। দিনে দিনে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে ইরানে। তার মাঝেই প্রবল কম্পনে কেঁপে উঠল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৩। প্রাথমিকভাবে এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও আচমকাই তীব্র কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে গুঞ্জন উঠেছে, এই ভূমিকম্প সত্যিই প্রকৃতির রোষ নাকি মার্কিন ‘সিসমিক বম্ব?' পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও বাদ যাচ্ছে না।

সংঘর্ষের মাঝেই কেঁপে উঠল ইরান! (Photo by ATTA KENARE / AFP)
সংঘর্ষের মাঝেই কেঁপে উঠল ইরান! (Photo by ATTA KENARE / AFP)

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের ফারস প্রদেশের গেরাশের কাছে কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুসারে, এদিন গেরাশ অঞ্চলে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎস। ইতিমধ্যেই একাধিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সূত্র দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে কম্পনের বিষয়টি। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে এই ভূমিকম্প নতুন করে একটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই কম্পন কী সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণ ঠেকাতে ব্রহ্মাস্ত্র, পরমাণু বোমার পরীক্ষা শুরু করেছে ইরান? মার্কিন ‘সিসমিক বম্ব'-এর কথাও ব্যাড দেওয়া যাচ্ছে না। ওয়াকিবহল মহলের একাংশের মতে, হতেই পারে মাটির নিচে আঘাত করতে সক্ষম মার্কিন ‘ভূমিকম্প বোমা’ আছড়ে পড়েছে। কারও মতে, ভূগর্ভস্থ সামরিক কাঠামোতে আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের সন্দেহ, যে পরমাণু বোমা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মূল আলোচ্য বিষয়, এমনকী প্রতিবেশী ইজরায়েলের আপত্তি ছিল, সেই আশঙ্কা সত্যি করেই কী নিউক্লিয়ার টেস্ট শুরু করল খামেনেইয়ের তৈরি সেনা? যদিও এর কোনও স্পষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে কারণ যাই হোক না কেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও ইরানের উপর চাপ যে আরও বাড়ল তাতে সন্দেহ নেই। যদিও আপাত ভাবে কম্পনের মাত্রা খুব বেশি না হওয়ায় কোনও বাড়তি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন। তার প্রত্যাঘাতে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। মঙ্গলবার ভোরেও একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টা যৌথ বাহনীর মিসাইলও আছড়ে পড়েছে ইরানের মাটিতে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা জোরদার হয়েছে। তারই মাঝে এই ভূমিকম্পে আরও আতঙ্কিত বাসিন্দারা।