সুখবর! যুদ্ধের আগুনে হরমুজ পেরল ৮ ভারতীয় জাহাজ, পিছিয়ে রইল...
বিশ্বের নজর যখন হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের দিকে, ঠিক তখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ 'বাব এল-মান্দেব প্রণালী'র দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের জন্য এল আরও একটি স্বস্তির খবর। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্তত আটটি ভারতীয় জাহাজ যাতায়াত করেছে। এগুলির মধ্যে দু’টি এলপিজি ক্যারিয়ার, দু’টি বিডব্লিউ টিওয়াইআর এবং দু’টি বিডব্লিউ ইএলএম, প্রায় ৯৪,০০০ টন এলপিজি নিয়ে দু’টি কার্গো জাহাজ নিরাপদে যুদ্ধক্ষেত্র অতিক্রম করেছে। ভারতীয় পতাকাবাহী চারটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। হিসাব বলছে, এই এখনও পর্যন্ত ভারতেরই সবচেয়ে বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরোনোর ছাড়পত্র পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালী অতিক্রম ভারতীয় জাহাজগুলি
যুদ্ধের আগুনে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে ভারতের পতাকাবাহী চারটি এলপিজি ট্যাঙ্কার। ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’ ৯২,৬১২ টন এলপিজি নিয়ে ভারতে পৌঁছেছে। এর আগে, প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি নিয়ে ‘এমটি শিবালিক’ এবং ‘এমটি নন্দা দেবী’ যথাক্রমে ১৬ মার্চ গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে এবং ১৭ মার্চ কান্দলা বন্দরে পৌঁছেছিল বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ৮০,৮৮৬ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘জগ লাড়কি’ ১৮ মার্চ মুন্দ্রায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে আফ্রিকায় গ্যাসোলিন বহনকারী ‘জগ প্রকাশ’ নিরাপদে প্রণালীটি অতিক্রম করেছিল। শুক্রবার রাতে প্রায় ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ‘গ্রিন সানভি’ জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে সহায়তা প্রদানের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সামুদ্রিক অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্র ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। এখনও পর্যন্ত যে আটটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে, সেগুলি হল- শিবালিক, নন্দাদেবী, জগ লড়কি, পাইন গ্যাস, জগ বসন্ত, বিডব্লু টায়ার, বিডব্লু এলম এবং গ্রিন সানভি।
ইরানের বক্তব্য
ভারতের অশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকের বেশিই আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যে পথ পেরিয়ে তেল-গ্যাসের জাহাজ ভারতে প্রবেশ করত, সেই হরমুজই অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। হুঁশিয়ারি দেয়, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে পরবর্তী কালে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে একটি চিঠিতে ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হরমুজে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরির বাণিজ্যিক জাহাজগুলি সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের হুমকি
বিশ্বের নজর যখন হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের দিকে, ঠিক তখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ 'বাব এল-মান্দেব প্রণালী'র দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। এটিকে ওই জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রশ্ন তুলে লেখেন, 'বিশ্বের জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম, চাল এবং সারের চালানের কত শতাংশ এই বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়? এই প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনের দিক থেকে কোন দেশ ও কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে?'
E-Paper

