Bengaluru News: সুকৌশলে তৈরি জাল নথি! ৮ বছর আগে বেঙ্গালুরু জেল থেকে উধাও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

Bengaluru News: ২০০১ সালের একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল ওই অপরাধী, যার নাম শঙ্কর এ।

Published on: May 24, 2026, 20:30:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bengaluru News: সিনেমার স্ক্রিপ্টকেও হার মানাবে এই বাস্তব ঘটনা! সুকৌশলে তৈরি করা আদালতের একটি জাল নির্দেশিকা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুক ফুলিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপহরণ মামলার আসামি। আর এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটি ঘটেছিল আজ থেকে ঠিক ৮ বছর আগে। বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রাহারা সেন্ট্রাল জেল থেকে হওয়া এই জালিয়াতির ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্য আসতেই দক্ষিণ ভারতের পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দরে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত ওই আসামি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।

বেঙ্গালুরু জেল থেকে উধাও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি (HT_PRINT)
বেঙ্গালুরু জেল থেকে উধাও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি (HT_PRINT)

২০০১ সালের একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল ওই অপরাধী, যার নাম শঙ্কর এ। আদালত সূত্রে খবর, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অপরাধে তাকে জোড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪এ ধারা (মুক্তিপণের জন্য অপহরণ) এবং ১২০বি ধারা (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)-র অধীনে শঙ্করকে এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়। সাজা ঘোষণার পাশাপাশি, ওই দুটি ধারার অধীনে শঙ্করকে আলাদাভাবে ৫,০০০ টাকা করে (মোট ১০,০০০ টাকা) আর্থিক জরিমানাও করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি এসে পৌঁছায়। সেই সময় জেলের আধিকারিকদের বিশ্বাস ছিল যে, একটি ফৌজদারি আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকেই ওই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নতুন এফআইআর-এ উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সেই তথাকথিত নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই সাজাপ্রাপ্ত শঙ্কর এ মোট ১০,০০০ টাকা জরিমানা জমা দিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। তবে এই ঘটনার বহু বছর পর এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনও নির্দেশে নয়, বরং সম্পূর্ণ জাল ও ভুয়া আদালতের নথি জমা দিয়ে নিজের বেআইনি মুক্তি নিশ্চিত করেছিল ওই অপরাধী। প্রতারণার এই মারাত্মক ঘটনাটি সামনে আসার পরই কর্ণাটকের কারা ও সংশোধনমূলক পরিষেবা মহাপরিচালকের (ডিজি) নির্দেশ অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের জন্য এই মামলা সংক্রান্ত সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি বেঙ্গালুরুর দক্ষিণ রেঞ্জের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্ত চলাকালীন, ওই মুক্তির আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করতে কারা বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেশের শীর্ষ আদালতের কর্তৃপক্ষ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বরের সেই তথাকথিত আদেশটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জাল ছিল। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের তরফে এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, এই প্রতারণা কেবল শঙ্কর এক করেনি। জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি শঙ্করকে এই জাল নথিগুলো তৈরি ও তা জমা দিতে পিছন থেকে বড়সড় সহায়তা করে থাকতে পারে। বর্তমানে পলাতক অভিযুক্ত শঙ্করকে পুনরায় গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই গভীর ষড়যন্ত্র এবং সরকারি নথি জালিয়াতির মামলায় জেলের কোনও কর্মী বা বাইরের যারা জড়িত রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরদার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।