Election Commission: ‘মার্ক ভিআইপি!' SIR-র মাঝেই বিএলও'দের অ্যাপে নয়া সংযোজন নির্বাচন কমিশনের
Election Commission: দিল্লি এবং হরিয়ানার বিএলও-রা নিশ্চিত করেছেন যে তাঁদের অ্যাপে এই মডিউল সক্রিয় রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিএলও-রা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন এ রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছিল, তখন এই ফিচার ছিল না।
Election Commission: ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার মাঝপথেই বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) ব্যবহৃত অ্যাপে ‘মার্ক ভিআইপি’ (Mark VIP) নামে একটি নতুন ফিচার চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI); এমনটাই জানতে পেরেছে এইচটি (HT)।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কার্যালয়ের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই ‘বিএলও অ্যাপ’ (BLO App) নামের এই অ্যাপটি নতুন ফিচারের সঙ্গে আপডেট করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিইও কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'সিইও অফিস থেকে অ্যাপ বা সফটওয়্যারে কোনও পরিবর্তন করা যায় না। এই সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশ সরাসরি কমিশনের তরফ থেকেই আসে।' অ্যাপলের অ্যাপস্টোরের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই অ্যাপের এই আপডেটটি নথিভুক্ত হয়, যার বিবরণে লেখা ছিল 'মার্ক ভিআইপি ভোটার সংক্রান্ত পরিবর্তন' (mark VIP elector related changes)। তবে অ্যান্ড্রয়েড প্লেস্টোরে এমন কোনও পরিবর্তনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এই ফিচার কেন সংযোজন করা হলো এবং কার নির্দেশে বা কোন এক্তিয়ারে এটি করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এইচটি, তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-র পর এই ফিচার চালু
অ্যাপটি যখন আপডেট করা হয়, তখন দিল্লি ও অন্য চারটি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার তথ্য গণনার কাজ (enumeration phase) চলছিল এবং ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ বাকি ১০টি রাজ্যে দাবি ও আপত্তির পর্যায় চলছিল। এই প্রসঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের বিএলও-দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে এইচটি। দিল্লি এবং হরিয়ানার বিএলও-রা নিশ্চিত করেছেন যে তাঁদের অ্যাপে এই মডিউল সক্রিয় রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিএলও-রা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন এ রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছিল, তখন এই ফিচার ছিল না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমবঙ্গের বিএলও অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য বলেন, '২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে যখন এসআইআর হয়, তখন বিএলও অ্যাপে এই ‘মার্ক ভিআইপি’ ফিচার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মাসখানেক আগে এটি যুক্ত করা হয়েছে। যাচাইকরণের সময় বিএলও-রা যাতে কোনও ব্যক্তিকে ভিআইপি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন, এটি সেই কাজে সাহায্য করে।' রাজধানীর বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ সংক্রান্ত নোটিস (logical discrepancy notices) পাঠানোর ঘটনা নিয়ে ভিআইপি ভোটারদের ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সামনে এল। এই তালিকায় রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী এল কে আডবানী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু।
অবশ্য, ২০১৮ সাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় কিছু ভোটারকে ‘ভিআইপি’ হিসেবে চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে ভিআইপি ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০-এর কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন দিল্লির সিইও কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় এক কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী, ভিআইপি ভোটারদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে খসড়া ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে, তবে দাবি ও আপত্তির নোটিসের আওতা থেকে তাঁরা মুক্ত নন—আর এটিই হয়তো ব্যাখ্যা করে কেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
নতুন দিল্লি জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, 'মার্ক ভিআইপি’ ফিচারটি একটি সুসংহতকরণ প্রক্রিয়ার মতো। কোনও ভোটারের বাড়ি পরিদর্শনের পর বিএলও যখন অ্যাস্টেরিস্ক (*) চিহ্ন দিয়ে সেই ভোটারকে ভিআইপি হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন তা এইআরও (AERO) এবং ইআরও (ERO) দ্বারা এবং পরবর্তীতে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় দ্বারা যাচাই ও অনুমোদিত হয়।' ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই জেলায় প্রায় ১,০০০ ভিআইপি ভোটার রয়েছেন। দিল্লির সিইও কার্যালয়ের উপরে উল্লিখিত দ্বিতীয় আধিকারিক জানান, বিএলও-দের সব সময়ই ভিআইপি ভোটার বা বিভিন্ন বয়সের ভোটারদের আলাদা তালিকা দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনের সময় যাতে আমরা তাঁদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে পারি, তা নিশ্চিত করার জন্যই এটি করা হয়েছে।'
E-Paper

