New Voter Online Registration: নতুন ভোটারদের জন্য বড় খবর! ফর্ম-৬-এর অনলাইন সংস্করণে যুক্ত হল নয়া অংশ
New Voter Online Registration: ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ২৮-এ বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা এই বিষয় নিয়ম তৈরি বা নীতি সংশোধনের ক্ষমতা থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
New Voter Online Registration: আপনি কী নতুন ভোটার হতে চাইছেন? বা ভোটার তালিকায় নতুন নাম তুলবেন?তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর। এবার আর যে কেউ হতে পারবে না ভোটার। নতুন ভোটারদের জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। নতুন ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম-৬-এর অনলাইন সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে একটি নতুন অংশ। যাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন জানাবেন, তাঁদের বাবা-মায়ের নাম শেষ এসআইআর-এ ছিল কিনা, তা জানাতে হবে। তবে, মূল ফর্মে এখনও এই সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-এ দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এ এখনও পর্যন্ত ৫.৫৮ কোটি নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের ছেলেমেয়েদের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। নাম বাদ পড়ার পর আপিল ট্রাইব্যুনালে শুনানি বিচারাধীন থাকায় তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের 'ECINET' পোর্টালে দেখা যায়, অনলাইন ফর্ম-৬-এর 'জে' এবং 'কে' অংশের মাঝখানে কোনও অক্ষর ছাড়াই একটি নতুন ডিক্লারেয়শন ফর্ম যোগ করা হয়েছে। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হচ্ছে যে শেষ এসআইআর-এ তাঁর বাবা-মায়ের নাম ছিল কিনা, বা কী অবস্থান। সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা অফলাইন ফর্ম-৬-এ এই নতুন অংশটি নেই। গত বছর জুন মাসে বিহারেই প্রথম এসআইআর হয়। সেই বিহার ছাড়া বাকি সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনলাইন ফর্মেই নতুন অংশটি যুক্ত থাকতে দেখা গিয়েছে। অসমে এখনও পর্যন্ত এসআইআর হয়নি।
যদিও ফর্মের এই অংশটিকে বাধ্যতামূলক বলা হয়নি। তবুও এটি পূরণ না করলে আবেদনকারী পরবর্তী ধাপে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ওই নতুন অংশে তিনটি অপশনের মধ্যে আবেদনকারীকে একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে, 'সর্বশেষ ভোটার তালিকায় আমার নাম আছে'; 'আমার মা, বাবা, ঠাকুমা-দাদুর নাম আছে'; 'না আমার নাম আছে, না আমার মা-বাবার।' প্রথম দু'টি সিলেক্ট করলে বিধানসভা কেন্দ্র, বুথ নম্বর এবং সর্বশেষ এসআইআর-এ মা-বাবার সিরিয়াল নম্বর দিতে হচ্ছে। শেষ বার ২০০০ সালে ভোটার তালিকা সংশোধন হয় এবং এ বছরের গোড়ায় ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হয়। প্রথম দু'টিতে তথ্য না থাকলে, তৃতীয় অপশনটি সিলেক্ট করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কী হবে, তার উল্লেখ নেই।
তবে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ২৮-এ বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা এই বিষয় নিয়ম তৈরি বা নীতি সংশোধনের ক্ষমতা থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের দুই প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, ফর্ম-৬-এ কোনও পরিবর্তন আনতে হলে অন্তত আইন মন্ত্রকের সংশোধনী ও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে এই ফর্ম পরিবর্তন করতে পারে না। এক প্রাক্তন আধিকারিকের কথায়, 'নির্বাচন কমিশন নিজের থেকে ফর্মে একটি কমাও যোগ করতে পারে না।' ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তরফে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনও মন্তব্য করেনি।
E-Paper

