Essential Commodities Act Invoked: গ্যাস সংকটের আতঙ্ক! দেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করল সরকার

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল দেশে। এদিকে আমদানি করা গ্যাসের মধ্যে থেকে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এসেছিল আরব দেশগুলি থেকে।

Published on: Mar 10, 2026 12:41 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তেল শোধনাগার এবং বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলিকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের উৎপাদন সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্তরে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গ্যাস বুকিংয়ের নীতিতে বদল এনেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার (PTI)
ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দেশে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার (PTI)

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল দেশে। এদিকে আমদানি করা গ্যাসের মধ্যে থেকে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ এসেছিল আরব দেশগুলি থেকে। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায় সেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে সরকার।

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে, সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিশোধকদের নিশ্চিত করতে হবে, তাদের উৎপাদিত প্রোপেন এবং বিউটেন যাতে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, এলপিজি প্রোপেন এবং বিউটেনের মিশ্রণ দিয়ে গঠিত। এদিকে এই আদেশের অধীনে উৎপাদিত সমস্ত এলপিজি কেবলমাত্র তিনটি সরকারি জ্বালানি বিপণন সংস্থা- ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডকে সরবরাহ করতে হবে।

ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে। এর জেরে দক্ষিণ ভারতে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরে একাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে যাতে গ্যাসের সংকট না হয়, তার জন্য অবশ্য সরকার তৎপর। যদিও ইতিমধ্যেই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে দেশে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বেড়েছে। এদিকে বাণিজ্যিক রান্নার সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা। এই আবহে দিল্লিতে ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া সিলিন্ডার দাম বেড়ে ৯১৩ টাকা হয়েছে, কলকাতায় তা হয়েছে ৯৩৯ টাকা। কলকাতায় ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ১৯৯০ টাকা।

এরই মাঝে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইতে হোটেল সংগঠনগুলি দাবি করে, ৯ মার্চ থেকেই ডিস্ট্রিবিউটররা গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে ইতিমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিকে বিয়ের মরশুমে অনেক বিয়েবাড়ি আর বুকিং নিচ্ছে না। এদিকে জাতীয় রেস্তোরাঁ সংগঠনের তরফ থেকেও এই পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। গুরুগ্রাম এবং মুম্বইয়ের মতো শহরেও হোটেল মালিকদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সব শহরেও নাকি সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। এই আবহে মুম্বইয়ের বহু জায়গার রেস্তোরাঁয় কম আঁচে রান্না করা আইটেম বাদ দেওয়া হয়েছে মেন্যু থেকে। কারণ এই সব রান্নায় বেশি গ্যাস খরচ হয়। এদিকে পুনেতে গ্যাস চালিত শ্মশান বন্ধ করা হয়েছিল অস্থায়ী ভাবে।

উল্লেখ্য, ভারতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য একধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে চালু হয়েছে নয়া নিয়ম। এখন থেকে ২৫ দিন অন্তর অন্তর সিলিন্ডারের বুকিং করা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতসহ সারা বিশ্বে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। এবং এই রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে অন্য বিকল্পের খোঁজে গোটা বিশ্ব। এদিকে ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা সম্ভব। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে দেশ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More