EU Parliament on Pak: কিশোরীকে অপহরণ করে জোর করে ধর্মান্তরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে পাকিস্তানকে তোপ ইউরোপীয় সংসদের
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত এই প্রস্তাবের মূল বিষয় পাকিস্তানের নাবালিকা মারিয়া শাহবাজের ঘটনা। অভিযোগ, ১৩ বছরের ওই খ্রিস্টান কিশোরীকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয় এবং পরে তার বিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
EU Parliament on Pakistan: পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার, নাবালিকা অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তর এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা নিয়ে এবার সরব হল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। দল-মতের বিভেদ ভুলে একাধিক ইউরোপীয় সাংসদ একটি প্রস্তাবের সমর্থনে একজোট হয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ যদি মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া GSP+ বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত এই প্রস্তাবের মূল বিষয় পাকিস্তানের নাবালিকা মারিয়া শাহবাজের ঘটনা। অভিযোগ, ১৩ বছরের ওই খ্রিস্টান কিশোরীকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয় এবং পরে তার বিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মারিয়া শাহবাজের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানে সংখ্যালঘু মেয়েদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতনের প্রতীক।
প্রস্তাবে পাকিস্তান সরকারকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর, বাল্যবিবাহ এবং নারী নির্যাতন রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপহৃত নাবালিকাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, আইনি সহায়তা, মানসিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু সংখ্যালঘুদের বিষয়েই নয়, প্রস্তাবে পাকিস্তানের বালোচ ও পশতুন নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী মাহরাং বালোচ, পশতুন নেতা আলি ওয়াজির এবং মানজুর পশতিন-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার এবং হয়রানির অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতে, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন এবং মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এছাড়া পাকিস্তানে ধর্মদ্রোহ (ব্লাসফেমি), সন্ত্রাসবিরোধী এবং সাইবার আইন ব্যবহার করে সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধীদের টার্গেট করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। এসব আইন যেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা সংখ্যালঘুদের দমন করার হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যদি মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার GSP+ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এই মর্যাদার ফলে পাকিস্তান ইউরোপীয় বাজারে বহু পণ্য শুল্কছাড় বা কম শুল্কে রপ্তানির সুবিধা পায়। সেই সুবিধা বাতিল হলে পাকিস্তানের রপ্তানি ও অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, ইসলামাবাদ এই উদ্বেগের জবাবে কী পদক্ষেপ করে এবং মানবাধিকার রক্ষায় কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


