Europe Heatwave 2026: গলে যাচ্ছে রাস্তা-ট্রামলাইন! গরমে পুড়ছে ইউরোপ, মৃত্যু হাজারের বেশি মানুষের

Europe Heatwave 2026: ফ্ৰান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড-সহ ১৬টি দেশে তাপমাত্রা কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। 

Published on: Jul 1, 2026, 14:27:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Europe Heatwave 2026: নজিরবিহীন গ্রীষ্মের দাবদাহ ইউরোপজুড়ে। ভয়াবহ তাপপ্রবাহের প্রকোপে ইউরোপের একাধিক দেশ। তীব্র গরমে মোমের মতো গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন। কোথাও আবার নরম হয়ে যাচ্ছে পিচের রাস্তা। আটকে যাচ্ছে জুতো। অসহনীয় দাবদাহে কার্যত দিশেহারা গোটা মহাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র দাবি, ২১ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত তাপপ্রবাহের জেরে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

গরমে পুড়ছে ইউরোপ
গরমে পুড়ছে ইউরোপ

ফ্ৰান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড-সহ ১৬টি দেশে তাপমাত্রা কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা পাবলিক হেলথ ফ্রান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত আগের মাসগুলোর একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ছিলেন। সংস্থাটি বলেছে, যে সব অঞ্চল সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'রেড অ্যালার্ট'-এর আওতায় ছিল, সেগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্যারিস ও তার আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পরিস্থিতি একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব তথ্য এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ফরাসি জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদিও তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতা থেকে কমতে শুরু করেছে, এখনও ফ্রান্সের বেশিরভাগ অংশে তা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে এবং সপ্তাহের শেষের দিকে তা আবার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহজুড়ে উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রবল গরমে নাভিশ্বাস ইউরোপের একটা বিরাট অংশের। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোথাও তারও উপরে ওঠার সতর্কতা। গত সপ্তাহে টানা তৃতীয় দিন জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে বিট্রেন। গত শুক্রবার দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেট অফিস জানায়, ওই দিন সর্বোচ্চ ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের সাফোকের ওয়াটিশামে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটেনের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে স্কটল্যান্ডের এস্কডালেমুইরে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ওয়েলসের হাওয়ারডেনে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডের কেটসব্রিজে ২৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা শুক্রবার দেশগুলোর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শনিবার নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছে। জার্মানি, ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার প্রাথমিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে, আর সুইজারল্যান্ডে ভেঙেছে জুন মাসের রেকর্ড। সোমবার স্লোভাকিয়ার টার্না নাদ বডভোউ শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাঙ্গেরির আসজোদে পারদ ছুয়েছে ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি কর্মীদের যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শ দিয়েছে হাঙ্গেরি সরকার।

দাবদাহের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনও। অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে তাপমাত্রা থাকবে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে ইতালির রাজধানী রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স এবং পালেরমো-সহ ২২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত লোডের কারণে ইতোমধ্যেই ফ্লোরেন্স ও বারগামো শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে, যা জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ইতালীয় বিমান বাহিনীর আবহাওয়াবিদ দানিয়েলে মোসিও বলেছেন, দেশটিতে আগামী আরও বেশ কয়েকদিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বলকান অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে ছিল। তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আলবেনিয়া এবং বুলগেরিয়ার বনাঞ্চলগুলোতে বিশাল আকারের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের হাজার হাজার কর্মী হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলবেনিয়া ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।