ইন্টারনেট না থাকলেও বার্তা পাঠানো যায়, জ্যাক ডরসির বিটচ্যাট ভারতে বন্ধ, কেন এই নির্দেশ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ভারতে তিন দিনের জন্য বিটচ্যাটের অ্যাক্সেস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। অ্যাপলকে পাঠানো নোটিসে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টারনেট না থাকলেও বার্তা পাঠানো যায়। আর সেই কারণেই ভারতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল জ্যাক ডরসির তৈরি বিটচ্যাট। এ বার সেই অ্যাপই দেশের অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। বিটচ্যাটের সহ প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পর অ্যাপল ভারতের অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি সরিয়েছে। একই ধরনের নির্দেশ গুগলকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ভারতে তিন দিনের জন্য বিটচ্যাটের অ্যাক্সেস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। অ্যাপলকে পাঠানো নোটিসে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, অ্যাপটিতে এমন বিষয় থাকার আশঙ্কা রয়েছে যা ভারতে বেআইনি এবং সেই কারণে অ্যাপটি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিটচ্যাট নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের পিছনে অন্য কারণও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিটচ্যাটের বিশেষত্ব হল, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ছাড়াই কাছাকাছি থাকা মানুষ একে অন্যের সঙ্গে বার্তা আদানপ্রদান করতে পারেন। ব্লুটুথ প্রযুক্তির সাহায্যে একটি ফোন থেকে আর একটি ফোনে বার্তা পৌঁছয়। ফলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলেও এই অ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব।
এই কারণেই দিল্লির যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিটচ্যাট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ২ অক্টোবর যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিটচ্যাটের মতো বিকল্প অ্যাপ ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়।
এর আগেও বিটচ্যাট নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ডরসির সংঘাত হয়েছিল। জুলাই মাসে দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হলে বহু মানুষ বিটচ্যাট ব্যবহার করেছিলেন। পরে ডরসি জানিয়েছিলেন, তাঁর অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত কিছু গিটহাব রিপোজিটরি সরানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই অ্যাপটির উপর নজর আরও বাড়ে।
কেন্দ্রের আশঙ্কা, ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও এই অ্যাপ সচল থাকায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পরিচয় গোপন রেখে যোগাযোগ, বেআইনি জমায়েত সমন্বয় বা সংগঠিত অপরাধের মতো কাজে এই ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। তাদের অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় বেআইনি তথ্য বন্ধ করা যায়, কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধের সময় কাজ করতে পারে বলে একটি বার্তা পাঠানোর অ্যাপকেই বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বিটচ্যাট নিজে কোনও বিষয়বস্তু প্রকাশ করে না। ব্যবহারকারীরাই এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠান।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিক্ষোভের সময় ভারতে বিটচ্যাটের ব্যবহার আচমকাই বেড়ে গিয়েছিল। একটি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে গোটা বিশ্বের বিটচ্যাট ডাউনলোডের প্রায় ৮৫ শতাংশই হয়েছিল ভারত থেকে। ফলে অ্যাপটির জনপ্রিয়তার দ্রুত বৃদ্ধি কেন্দ্রের নজরে আসা অস্বাভাবিক নয়।
এখন প্রশ্ন, সরকার কি শুধু কয়েক দিনের জন্য অ্যাপটির প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে, না কি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার পথে যাচ্ছে। কেন্দ্রের তরফে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে বিটচ্যাট বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


