‘আমার সঙ্গে কেউ মেয়ের বিয়ে চায়নি, গাড়ি চললে ঝাঁপ..’, IPL-র আগে বিস্ফোরক প্রাক্তন ক্রিকেটার
মুখ খুললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণাণ।
রাত পোহালেই দেশ জুড়ে আইপিএল-জ্বর শুরু হয়ে যাবে! ২৮ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে টি২০র মহারণ। এদিকে, এই ক্রিকেট উৎসবের আগে খবরে প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণাণ। কিছুদিন আগেই তিনি বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বহু বছর আগের এক অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি। জানালেন অবসাদের দিনগুলির কথা। তাঁর বিয়ে ঘিরে অভিজ্ঞতাও শোনালেন লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণাণ।

একসময় ভারতের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে প্রশংসিত হলেও, কিশোর বয়সেই এই লেগ-স্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণাণকে 'মাদকাসক্ত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মাদক ও মদ্যপানের অভিযোগ সহ্য করা কতটা কঠিন ছিল, তা নিয়ে মুখ খোলেন লক্ষ্মণ। দাবি করেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাদকাসক্ত হওয়ার অভিযোগটি কতটা কঠিন ছিল সহ্য করা। এককালে ১৭ বছর বয়সে ভারতের হয়ে খেলেছেন লক্ষ্মণ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সদ্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,' লোকজন খারাপ কথা ছড়াতে ভালোবাসে। আমার ট্যুরগুলো হয়েছিল ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে। আমি যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলাম, তখন লোকেরা আমাকে হোটেলে মদ পরিবেশন করত কীভাবে? আমি জীবনে কখনো মাদক নিইনি। জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে আমি কয়েক গ্লাস বিয়ার খেয়েছি, তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ভাবুন তো, একজন ১৯ বছর বয়সীকে মদ্যপ বা মাদকাসক্ত বলা হচ্ছে।'
শিবরামকৃষ্ণন এরপর বলেন, কীভাবে তাঁর বাবা-মা একটি তাঁর বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে একজন টেস্ট ক্রিকেটার ও ফ্ল্যাটের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল এবং সাড়া পাওয়ার জন্য একটি পোস্ট বক্স নম্বরও দেওয়া হয়েছিল। দুই সপ্তাহ পর, যখন তাঁরা বক্স খুললেন, তখন একটিও আবেদনপত্র ছিল না। শিবরামকৃষ্ণাণ বলছেন, 'এর মানে হলো, লোকেরা আমার সুনাম এতটাই নষ্ট করে দিয়েছিল যে, কেউই তাদের মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিতে চাইত না।'
এই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তাঁর অবসাদ নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, 'আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম এবং আয়নায় নিজের মুখ দেখতে চাইতাম না। আমি দু-এক পেগ মদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম, কারণ কিছুই সহ্য করতে পারতাম না। যখনই জেগে থাকতাম, মনে হতো আমি মরে যাব।' তিনি আরও বলেন, 'মাঝে মাঝে দুবাই ভ্রমণের সময় দেখতাম, সেখানে গতির কোনো সীমা নেই। গাড়িটা খুব দ্রুত গেলে আমার মন বলত দরজা খুলে লাফিয়ে বেরিয়ে (ঝাঁপ) পড়ি। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে আমি কোনও বোকামি করে বসতাম না।' প্রসঙ্গত, ১৯৮৭ সালে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ হওয়ার পর শিবরামকৃষ্ণন ধারাভাষ্যে আসেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি আইপিএলে এক পরিচিত কণ্ঠস্বর ছিলেন, কিন্তু কোভিড-১৯ লকডাউন তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলে তিনি জানান।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


