বড় রায় আদালতের! ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি শুরু হবে নতুন সংঘাত?
মঙ্গলবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদের, এ এফ এম বাহাউদ্দীন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। সাতজনই পলাতক।
শেখ হাসিনার পর এবার ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে কি নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন তৈরি হতে চলেছে? বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের-সহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এই প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে। কারণ, দণ্ডিতদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের ভারতে অবস্থান নিয়ে আগে থেকেই একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ঢাকা যদি তাঁকে ফেরত চায়, তাহলে নয়াদিল্লির অবস্থান কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদের, এ এফ এম বাহাউদ্দীন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। সাতজনই পলাতক। এর মধ্যে ভারতের জন্য কাদেরের নামটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা, বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়। ঢাকা একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি তুলেছে। কিন্তু নয়াদিল্লি এখনও তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি। ফলে হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে, ওবায়দুল কাদেরের রায়ের পর তা আরও বাড়তে পারে।
কাদেরের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে ছিলেন এবং কলকাতায় চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশের আদালতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রত্যর্পণ চাইবে?
এখানেই শুরু হতে পারে নতুন কূটনৈতিক জটিলতা। ঢাকা যদি কাদেরকে ফেরানোর দাবি জানায়, ভারতকে একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অন্যদিকে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি ও কূটনৈতিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে। কারণ এটি শুধু কোনও রাজনৈতিক নেতাকে ফেরানোর প্রশ্ন নয়; তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিও পুরো পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলবে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর রায় এবং তাঁদের মধ্যে কেউ ভারতে থাকলে বিষয়টি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। ঢাকার পক্ষ থেকে যদি চাপ বাড়ে, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত কোনও প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ভারতবিরোধী বক্তব্যও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে এই মুহূর্তে সরাসরি ভারত-বাংলাদেশ সংঘাত শুরু হবে—এমন কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই। কাদেরের প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই এখনই বিষয়টিকে সংঘাত হিসেবে দেখার চেয়ে সম্ভাব্য কূটনৈতিক টানাপোড়েন হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শেখ হাসিনার পর ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে যদি ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে প্রত্যর্পণ বিতর্ক শুরু হয়, তাহলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর তার রাজনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট বড় হতে পারে। হাসিনা ইস্যু এখনও পুরোপুরি মেটেনি, তার মধ্যেই কাদেরের মৃত্যুদণ্ড নতুন প্রশ্ন তুলল। এবার নজর থাকবে ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নয়াদিল্লির জবাবের দিকে। সেখানেই বোঝা যাবে, এটি নিছক আইনি বিষয় হয়ে থাকবে, নাকি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন এক কূটনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


