রংমিস্ত্রির ছেলের সাফল্যে নজির, NEET UG-তে ৯৯.১৬ পার্সেন্টাইলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার স্বপ্নপূরণের পথে সূর্য
অত্যন্ত সাধারণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম কঠিন মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET UG 2026-এ ৫৮৩ নম্বর পেয়ে ৯৯.১৬ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছেন সূর্য। শুধু তাই নয়, তাঁর সর্বভারতীয় (AIR) র্যাঙ্ক হয়েছে ১৬,৫৬৯ এবং ওবিসি বিভাগে ৭,৮০০।
NEET UG Success Story: কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে দারিদ্র্য কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বাসিন্দা সূর্য সাইনি। অত্যন্ত সাধারণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম কঠিন মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET UG 2026-এ ৫৮৩ নম্বর পেয়ে ৯৯.১৬ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর সর্বভারতীয় (AIR) র্যাঙ্ক হয়েছে ১৬,৫৬৯ এবং ওবিসি বিভাগে ৭,৮০০। এই ফলাফলের পর তাঁর সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল।

সূর্যের বাবা পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। বাড়িতে রং করা ও পুতাইয়ের কাজ করেই সংসার চালান তিনি। পারিবারিক অশান্তির কারণে বাবাও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের থেকে আলাদা থাকেন। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়েননি সূর্য। সরকারি স্কুলেই তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সূর্য। দশম শ্রেণিতে ৮৭ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। সেই ফলই প্রমাণ করেছিল, সুযোগ পেলে তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখার পিছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মাসি। তিনি একজন এএনএম (ANM) নার্স। তাঁকে মানুষের সেবা করতে দেখে সূর্যের মনেও চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা জন্মায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই একাদশ শ্রেণিতে জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পথ মোটেই সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁকেও রং করার কাজ শিখতে হয়। স্কুলে ছুটির দিন, রবিবার কিংবা পড়াশোনা শেষে অবসর সময় পেলেই তিনি বাড়ি রং করার কাজে বাবাকে সাহায্য করতেন। সেই কাজ থেকে যা আয় হতো, তা দিয়ে সংসারের খরচ এবং নিজের পড়াশোনার কিছুটা ব্যয় মেটাতেন।
দিনে শ্রমিকের কাজ আর রাতে বই নিয়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা—এই ছিল সূর্যের প্রতিদিনের রুটিন। ক্লান্তি বা অভাব কোনও কিছুই তাঁকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। অবশেষে সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে NEET পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন। সূর্যের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকায়। স্থানীয় মানুষও তাঁর এই অর্জনকে গর্বের বলে মনে করছেন। কারণ, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বড় স্বপ্ন দেখতে অর্থই সব নয়, প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প এবং নিরলস পরিশ্রম।
সূর্য সাইনির এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দেশের লক্ষ লক্ষ আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, জীবনে যতই বাধা আসুক না কেন, লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করা যায়, তাহলে সাফল্য একদিন না একদিন অবশ্যই ধরা দেয়। তাঁর এই গল্প আগামী প্রজন্মের কাছে আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


