Ex-Singapore diplomat: 'ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন!' বিমান ছিনতাইয়ের সময় বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে প্রাক্তন দূতের বিস্ফোরক ফোনালাপ

Ex-Singapore diplomat: সেই ফোনের পরেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন প্রাক্তন কূটনীতিক বিলাহারি কৌসিকান। তিনি জানিয়েছেন, 'এমন এক কঠিন পরিস্থিতি। এতগুলি মানুষের জীবনের বিষয়। তখন ভুট্টোর নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে ফোনের উত্তরে জানান, ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন, ওনাকে এখন বিরক্ত করা যাবে না।'

Published on: Jul 3, 2026, 22:00:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ex-Singapore diplomat: পাকিস্তানের প্রাক্তন (প্রয়াত) প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার উদাহরণ দিলেন সিঙ্গাপুরের এক প্রাক্তন কূটনীতিক। এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৯৯১ বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধেই মুখ খুলেছেন। ওই কূটনীতিকের নাম বিলাহারি কৌসিকান। তিনি ২০১০-২০১৩ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রকের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।

বিমান ছিনতাইয়ের সময় বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে প্রাক্তন দূতের বিস্ফোরক ফোনালাপ Photographer: Asad Zaidi/Bloomberg News
বিমান ছিনতাইয়ের সময় বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে প্রাক্তন দূতের বিস্ফোরক ফোনালাপ Photographer: Asad Zaidi/Bloomberg News

১৯৯১ সালে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানকে হাইজ্যাক করেছিল কয়েকজন পাকিস্তানি জঙ্গি। সেই বিমানটি মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুর এয়ারপোর্টে থেকে রওনা দিয়েছিল। সিঙ্গাপুরের ছাঙ্গি এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। তখন বিমানটিতে ছিলেন প্রায় ১১৪ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রু সদস্য। তাঁদের সবাইকে পণবন্দি করে ওই পাক জঙ্গিরা। বিষয়টি সামলানোর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিলাহারি কৌসিকানকে। তিনি জানিয়েছেন, 'ওই জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নয়। জঙ্গিরা শুধু বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল। যদিও তখন ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন না। কিন্তু জঙ্গিদের দাবি ছিল তাঁর সঙ্গেই কথা বলবে। সেই মতো আমি বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তখন উনি সিন্ধু প্রদেশে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। ঘড়ির কাঁটায় বাজে ভোররাত ৩টে। কিন্তু পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমাকে ভুট্টো ম্যাডামকে ফোন করতেই হয়েছিল।'

যদিও সেই ফোনের পরেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন প্রাক্তন কূটনীতিক বিলাহারি কৌসিকান। তিনি জানিয়েছেন, 'এমন এক কঠিন পরিস্থিতি। এতগুলি মানুষের জীবনের বিষয়। তখন ভুট্টোর নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে ফোনের উত্তরে জানান, ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন, ওনাকে এখন বিরক্ত করা যাবে না। সেটা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। আমরা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম। যদিও ম্যাডাম ভুট্টোর তরফে আর যোগাযোগ করা হয়নি। অগত্যা আমরা কমান্ডোদের ডেকেছিলাম। সিঙ্গাপুরের কমান্ডোদের হাতেই নিকেশ হয় জঙ্গিরা। তাঁদের আদপে কী দাবি ছিল সেটা আজও অজানা।' এই কথাগুলি বলতে গিয়ে পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিলাহারি কৌসিকান। তিনি বলেন, 'পাকিস্তান আজ খাদের ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধুমাত্র তাঁদের রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের জন্যই। ওদের দেশের নেতারাই পাকিস্তানকে ডুবিয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা কাজের নন। আর পাকিস্তানের আরও বড় সমস্যা হল সেনাবাহিনীর দাপাদাপি।'

তিনি সতর্ক করে বলেন, 'পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী খুবই চটপটে এবং খুবই সফল ছিল, যার কৃতিত্ব আপনাকে দিতেই হবে; তবে কূটনৈতিক সাফল্য মানুষের মুখে অন্ন যোগায় না-এটাই নির্মম বাস্তবতা। পাকিস্তানের সমস্যাগুলো কূটনৈতিক নয়; পাকিস্তানের সমস্যাগুলো আরও অনেক বেশি মৌলিক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ। অর্থনীতির অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন জিহাদি আন্দোলনকে হাতের বাইরে চলে যেতে দেওয়া-এই সমস্যাগুলোর সমাধান যদি আপনারা না করেন, তবে আপনারা সব সময়ই রাষ্ট্র হিসেবে ভেঙে পড়ার বা ব্যর্থ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঝুলতে থাকবেন।' তাঁর এই তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণের সমাপ্তি টেনে সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই সংকটাপন্ন দেশের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ কেবলই এর কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণে, তাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি কোনও প্রকৃত শ্রদ্ধাবোধ থেকে নয়।