EAM S Jaishankar: জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার! ভারতকে 'মিডল পাওয়ার' তকমায় বাঁধতে নারাজ বিদেশমন্ত্রী
EAM S Jaishankar: এস জয়শঙ্করের মতে, আগামী দিনে দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা উভয়ই নতুন রূপ নেবে।
EAM S Jaishankar: ভারতকে 'মিডল পাওয়ার' বা মাঝারি শক্তির অধিকারী হিসেবে চিহ্নিত করা আসলে দেশকে নির্দিষ্ট সংজ্ঞার বেড়াজালে 'সীমাবদ্ধ' করে ফেলার শামিল। বুধবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

দিল্লিতে 'ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম'-এর প্যানেল আলোচনায় বিদেশ মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন ভারত নিজেকে 'মিডল পাওয়ার' হিসেবে অভিহিত করা পছন্দ করে না? জবাবে এস জয়শঙ্কর বলেন, মিডল পাওয়ারের চেয়েও বড় বিষয় হলো—এক অর্থে ভারত হলো 'পাওয়ার ইন দ্য মিডল' বা কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শক্তি। মিডল পাওয়ারের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মন্তব্য তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় মিডল পাওয়ার হলো 'এমন এক দেশ যার অন্যদের ক্ষমতায়ন করার ক্ষমতা রয়েছে (Power to empower)।' এর পরই এস জয়শঙ্কর বলেন, তবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি কোনও 'স্বস্তিদায়ক' বিবরণ নয়।
বিদেশ মন্ত্রীর কথায়, 'আপনি যদি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হন, আপনার জিডিপি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয় এবং আপনার বিপুল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, তবে নিজেকে 'মিডল পাওয়ার' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করাটা আপনার সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলে।' তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথাকথিত মাঝারি শক্তির অধিকারী দেশগুলি প্রত্যেকে এখন নিজেদের চিন্তাভাবনা প্রয়োগ করবে, নিজস্ব স্বার্থ চিহ্নিত করবে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করবে এবং তারপর পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাবে। বিশ্ব অর্থনীতির সংবেদনশীল দিকগুলি তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখন বিভিন্ন 'চোক পয়েন্ট' বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে—এমনকী অর্থব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞাকেও এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে জয়শঙ্কর বলেছেন, কিছু দেশ নির্দিষ্ট সম্পদ বা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে অন্যান্য দেশের ওপর চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এস জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভবিষ্যতের বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার ভিত্তি হবে বিভিন্ন দেশ একে অপরকে কী দিতে পারে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে তারা কী ধরনের চুক্তি সম্পাদন করতে পারে। তাঁর মতে, আগামী দিনে দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা উভয়ই নতুন রূপ নেবে। প্রতিটি দেশ আলোচনার টেবিলে তাদের সম্পদ, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়ে আসবে। তবে বিদেশ মন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব ব্যবস্থার পরিবর্তনকে শুধু নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।
E-Paper

