'স্পেশাল ২৬'-কেও হার মানাবে! দিল্লিতে বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ভুয়ো ED হানা, লুট লক্ষাধিক টাকা-গয়না

তদন্তকারীরা পুলিশ নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকার ব্যক্তিগত ক্যামেরা এবং হাই-স্পিড ট্রাফিক ক্যামেরার-সহ ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন।

Published on: Feb 27, 2026, 20:23:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ঠিক যেন বলিউড ছবি 'স্পেশাল ২৬'-এর চিত্রনাট্য। সিনেমার কায়দাতেই দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির এক বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ভুয়ো ইডি তল্লাশি অভিযানের অভিযোগ উঠেছে গৃহ সহায়িকার বিরুদ্ধে। নিখুঁত পরিকল্পনা, ইউনিফর্ম, ভুয়ো পরিচয় এবং সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তার প্রায় ৪ লক্ষ টাকা নগদ ও দামী জিনিসপত্র লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীতে।

দিল্লিতে বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ভুয়ো ED হানা (সৌজন্যে টুইটার)
দিল্লিতে বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ভুয়ো ED হানা (সৌজন্যে টুইটার)

পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা নাগাদ পুলিশের উর্দিধারী তিন ব্যক্তি জোর করে ঢুকে পড়ে দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনির এক বৃদ্ধের বাড়িতে। নিজেদের ইডি অফিসার বলে দাবি করে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়, তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর শুরু হয় ঘরের ভিতর তল্লাশির নামে নাটক। লুট চলছিল কিন্তু সেই সময়ই হঠাৎ বৃদ্ধের নাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছন, ফলে অভিযুক্তরা পালাতে বাধ্য হয়। তবে পালানোর সময় তারা আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং সাতটি বিলাসবহুল ঘড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। ভুয়ো ইডি-র হানার সময়ে ৮৬ বছরের অবসরপ্রাপ্ত স্থপতি আর সি সাভারওয়াল ছাড়াও বাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ঊষা সাভারওয়াল। তিনি দুর্দান্ত উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন। কৌশলে তিনি ফোন করেন নাতিকে। নাতি ফোনে সব কথা শোনেন। ইডি দফতরেই ওকালতি করার দৌলতে তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি ভুয়ো অভিযান। ডাকাতরাও এই ফোন কলের কথা জেনে ফেলে। আসল ইডি উকিলের কথা শুনেই তারা ঘাবড়ে যায়। বড় বিপদের আঁচ পেয়ে তড়িঘড়ি কিছু নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে তারা চম্পট দেয়।

পুলিশের পদক্ষেপ

এরপরে দ্রুত তদন্তে নামে দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা পুলিশ নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকার ব্যক্তিগত ক্যামেরা এবং হাই-স্পিড ট্রাফিক ক্যামেরার-সহ ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। সেই সমস্ত ফুটেজ জোড়া লাগিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ট্র্যাক করা হয়। দেখা যায় তারা ঘটনাস্থল থেকে গাজিপুর সীমান্ত পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশে ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সূত্র মেলে গাজিয়াবাদে, যেখানে ব্যবহৃত গাড়িটি পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়ির হদিশ পাওয়ার পর তদন্তকারীরা মোবাইল টাওয়ার ডাম্প ডেটা এবং আইএমইআই ট্র্যাকিং ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নম্বর চিহ্নিত করেন, যেগুলি ঘটনাস্থল ও গাড়ি পার্কিংয়ের সময় সক্রিয় ছিল। জানা গিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত বালেনো গাড়িটি থাপার নামে নথিভুক্ত। পুলিশের এই বিশ্লেষণ গিয়ে পৌঁছয় পুজা রাজপুত নামে এক মহিলার বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারীর গৃহ সহায়িকা রেখা দেবী নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়, পুজা রাজপুত আসলে রেখা দেবীর ভাসুর বউ।

বুধবার পুজা রাজপুতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আইটিবিপি ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদমর্যাদার পূর্ণ ইউনিফর্ম, ভুয়ো পরিচয়পত্র, ওয়্যারলেস সেট, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া গয়না ও সাতটি বিলাসবহুল ঘড়ি, যা সরাসরি লুটের ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ প্রমাণ করে। ৪০ বছরের রেখা দেবীকে লুটের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁর ভাসুরবউ পুজা রাজপুতকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে প্রকাশ (কর্মরত আইটিবিপি কনস্টেবল), মনীশ এবং উপদেশ সিং থাপা (অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী), এই তিন জন পুরুষ অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পলাতকদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে। বাকি চুরি যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।