FBI-এর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত, কে এই মঞ্জিত সিং
FBI-এর দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে অন্তত ৬ লক্ষ ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মঞ্জিতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আমেরিকার বাইরে, ভারতে পালিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে FBI।
আমেরিকায় বড়সড় প্রতারণার অভিযোগ উঠল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা FBI-এর ‘Most Wanted Fraudsters’ তালিকায় নাম উঠেছে মঞ্জিত সিং বেদির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারি ওয়েলফেয়ার প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্রে যুক্ত ছিলেন তিনি।

FBI-এর দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে অন্তত ৬ লক্ষ ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মঞ্জিতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আমেরিকার বাইরে, ভারতে পালিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে FBI।
দোকান চালিয়েই চলছিল ‘জালিয়াতি’?
মার্কিন তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের টাকোমায় একটি ছোট মুদি দোকান চালাতেন মঞ্জিত। দোকানের নাম ছিল ‘এশিয়ান গ্রোসারি স্টোর’। সেই দোকানে SNAP প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা EBT কার্ড ব্যবহার করতেন। SNAP হল আমেরিকার সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রকল্প। FBI-এর অভিযোগ, মঞ্জিত প্রকৃতপক্ষে ওই গ্রাহকদের খাবার বিক্রি করতেন না। তাঁদের EBT কার্ড সোয়াইপ করে নগদ টাকা দিতেন। আর সেই টাকার একটা বড় অংশ নিজের কাছে রেখে দিতেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এই পদ্ধতিতে সরকারি খাদ্য সহায়তার টাকা বেআইনি ভাবে নগদে বদলে দেওয়া হত।
মামলা হওয়ার পরেও দেশ ছাড়ার অভিযোগ
মঞ্জিতের বিরুদ্ধে ওয়্যার জালিয়াতি এবং SNAP benefits fraud-এর অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এর পর তাঁকে গ্রেফতার না করে আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে FBI জানিয়েছে। তবে তাঁকে নিজের পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছিল। ওয়াশিংটন রাজ্য না ছাড়ার নির্দেশও ছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, মঞ্জিত পরে গাড়ি চালিয়ে কানাডায় চলে যান। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার
মঞ্জিতের সন্ধান পেতে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে FBI। তাঁর গ্রেফতার এবং দোষী সাব্যস্ত করার দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমন তথ্য দিলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার মিলতে পারে। FBI জানিয়েছে, মঞ্জিত একজন স্বাভাবিকীকৃত মার্কিন নাগরিক। তবে ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় মোট ১২ জন
FBI চলতি বছরের জুনে ‘Most Wanted Fraudsters’ তালিকা চালু করে। লক্ষ্য, আমেরিকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতকদের খুঁজে বার করা। বর্তমানে এই তালিকায় মোট ১২ জন রয়েছেন। এর মধ্যে মঞ্জিতও একজন। FBI-এর তথ্য অনুযায়ী, আগে এই তালিকায় থাকা চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাঁদের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন কৃষি দফতরের ইন্সপেক্টর জেনারেল জন ওয়াক বলেছেন, পলাতকদের খুঁজে বার করতে এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে আমেরিকা?
মঞ্জিতের ক্ষেত্রে FBI ইতিমধ্যেই ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে গত কয়েক বছরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতা বেড়েছে। সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন হার্ডবল’-এর ক্ষেত্রেও দুই দেশের সংস্থার সহযোগিতার কথা সামনে এসেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগেই জানিয়েছিলেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে ভারত ও আমেরিকার সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। এ বার সেই সহযোগিতার নজর থাকতে পারে মঞ্জিত সিং বেদির মামলাতেও। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মঞ্জিতকে দোষী বলা যায় না। মার্কিন তদন্ত সংস্থার অভিযোগই এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান তথ্য।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


