Argentina on Falkland Islands Banner Row: জয়ের আনন্দে ‘ফকল্যান্ড বার্তা’! বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টাইন তারকারা

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, 'Las Malvinas son Argentinas' অর্থাৎ 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার'। এই বার্তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে ফিফা ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

Published on: Jul 17, 2026, 11:47:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Argentina on Falkland Islands Banner Row: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের পর শুধু জয় নয়, বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কারণ, জয়ের উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, 'Las Malvinas son Argentinas' অর্থাৎ 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার'। এই বার্তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, 'Las Malvinas son Argentinas' অর্থাৎ 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার'। (AFP)
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা হাতে তুলে নেন একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, 'Las Malvinas son Argentinas' অর্থাৎ 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার'। (AFP)

আর্জেন্টিনা যে দ্বীপপুঞ্জকে ‘আইলস মালভিনাস’ নামে দাবি করে, সেটিই আন্তর্জাতিকভাবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি ব্রিটেনের অধীনস্থ একটি বিদেশি অঞ্চল। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ওই দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে ব্রিটেনের সঙ্গে ১০ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাকর্মী এবং তিনজন দ্বীপবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সংঘাত আজও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে তারা ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দেওয়া ওই ব্যানার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, 'এটি আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। সেই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জন্যই এটি আবেগের বিষয়। আমরা জানতাম, শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো দেশের মানুষের জন্যও খেলছি। আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে এই বার্তা দিতে যে এটি আমাদের কাছে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না।' অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেন, 'আমরা আর্জেন্টিনার মানুষকে হতাশ করতে পারতাম না।' তাঁর মন্তব্যও এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক, আদর্শগত, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ফলে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী কাইল ফিফাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'রাজনীতি এবং ফুটবলকে আলাদা রাখা উচিত। বিশ্বকাপের অন্যতম মূল নীতিই হল খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়ানো। এখন বিষয়টি ফিফার দেখার।' উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত প্রায় ৩,৫০০ জন বাসিন্দার এই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ব্রিটেনের দাবি, ১৭৬৫ সাল থেকেই তাদের এই ভূখণ্ডের উপর অধিকার রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক বিরোধ আজও মেটেনি। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলের আবেগের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক ইস্যু জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More