FIFA WC DR Congo: গুলির আওয়াজ ছাপিয়ে বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিজয়ের গান, নকআউটে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি

কঙ্গোর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দ তাই শুধুমাত্র খেলার মাঠের কোনও সাফল্য নয়। এটি সেই সব মায়ের জয়, যাঁরা যুদ্ধের মধ্যেও সন্তানকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এটি সেই শিশুদের জয়, যারা ভাঙা কাঠ দিয়ে গোলপোস্ট বানিয়ে একদিন বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছে।

Published on: Jun 28, 2026, 09:33:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

৫২ বছরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে ইতিহাস গড়ল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নবাগত উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এই জয় শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকটের মধ্যেও স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা এক জাতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

৫২ বছরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে ইতিহাস গড়ল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (Getty Images via AFP)
৫২ বছরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে ইতিহাস গড়ল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (Getty Images via AFP)

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন কঙ্গোর ফুটবলার ও সমর্থকরা। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উড়তে থাকে জাতীয় পতাকা। কিন্তু সেই আনন্দের বিপরীতে হাজার মাইল দূরে পূর্ব কঙ্গোর গোমা, উত্তর কিভু কিংবা সংঘাতকবলিত অন্য অঞ্চলের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে এখনও বিস্ফোরণের শব্দ, গুলির আওয়াজ, বাস্তুচ্যুত মানুষের দীর্ঘ মিছিল এবং নিরাপত্তাহীনতার জীবন প্রতিদিনের বাস্তবতা।

ডিআর কঙ্গোর বর্তমান সাফল্যের পেছনে রয়েছে রক্তাক্ত এক ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে প্রথম কঙ্গো যুদ্ধ এবং ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধ দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত করে। রুয়ান্ডা, উগান্ডাসহ একাধিক আফ্রিকান দেশের জড়িয়ে পড়া এই সংঘাত 'আফ্রিকার বিশ্বযুদ্ধ' নামে পরিচিত। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে লাখো মানুষের মৃত্যু এবং কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হলেও পূর্ব কঙ্গো আজও পুরোপুরি শান্ত নয়। খনিজসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ, জাতিগত উত্তেজনা এবং সীমান্ত অস্থিরতা এখনও হাজার হাজার মানুষকে ঘরছাড়া করছে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই কঙ্গোর ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য নতুন পরিচয় তৈরি করছেন।

যে দেশের বহু শিশু ফুটবল মাঠের চেয়ে আগে আশ্রয়কেন্দ্রের পথ চেনে, সেই দেশের তরুণদের পায়ে আজ বিশ্বকাপের স্বপ্ন। তাঁদের প্রতিটি দৌড় যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি পাস একে অপরকে টিকিয়ে রাখার অঙ্গীকার, আর প্রতিটি গোল যেন ঘোষণা করে- বন্দুক মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে হত্যা করতে পারে না।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দ তাই শুধুমাত্র খেলার মাঠের কোনও সাফল্য নয়। এটি সেই সব মায়ের জয়, যাঁরা যুদ্ধের মধ্যেও সন্তানকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এটি সেই শিশুদের জয়, যারা ভাঙা কাঠ দিয়ে গোলপোস্ট বানিয়ে একদিন বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছে। কঙ্গোর এই লড়াই বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এটি একটি জাতির আশা, প্রতিবাদ এবং পুনর্জন্মের ভাষা। স্কোরবোর্ডে লেখা ৩-১ ব্যবধানের জয়ের আড়ালে তাই লুকিয়ে আছে লাখ লাখ মানুষের অদম্য লড়াইয়ের গল্প- যারা এখনও বিশ্বাস করে, একদিন যুদ্ধ থামবে, কিন্তু স্বপ্নের দৌড় থামবে না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More