FIFA World Cup Netherlands Vs Morocco: সন্তান হারানোর শোক বুকে নিয়েও গোল গাকপোর, তাও টাইব্রেকার অভিশাপে বিদায় ডাচদের

মন্তেরেইয়ে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গাকপো। ৭২ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই গোলের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনার গল্প। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই গোলেও জয়লাভ করতে পারল না ডাচরা।

Published on: Jun 30, 2026, 10:48:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মাঠে গোল করার পর হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলেন কোডি গাকপো। দুই হাত আকাশের দিকে, চোখে জল আর মুখে অদ্ভুত এক আবেগ। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এটি যেন শুধুই একটি গোল উদ্‌যাপন নয়—একজন বাবার নীরব আর্তনাদ। মন্তেরেইয়ে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গাকপো। ৭২ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই গোলের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনার গল্প। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই গোলেও জয়লাভ করতে পারল না ডাচরা। টাইব্রেকারের অভিশাপে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল তারা। শেষ মুহূর্তের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বাজিমাত করল মরোক্কো।

মন্তেরেইয়ে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গাকপো। (AFP)
মন্তেরেইয়ে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গাকপো। (AFP)

কয়েক দিন আগেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন আঘাত পেয়েছেন ডাচ তারকা। স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ জানিয়েছেন, তাঁদের অনাগত সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে। ছেলের নামও ঠিক করে ফেলেছিলেন দু'জনে—এলিজা রাফায়েল গাকপো। কিন্তু সেই নাম আর কোনও জন্মসনদে লেখা হলো না। মায়ের গর্ভেই থেমে গেল একটি জীবনের শুরু।

এমন শোকের পর অনেকেই হয়তো ফুটবল থেকে কিছুদিন দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু গাকপো দলের সঙ্গেই থেকে যান। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে নামেন মাঠে। হয়তো নিজের যন্ত্রণা ভুলে থাকার জন্য, হয়তো দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে, কিংবা হয়তো সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মৃতিকে হৃদয়ে নিয়ে।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে যখন ক্রিসেনসিও সামারভিলের পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন, তখন যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল সময়। গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপন ছিল নিঃশব্দ, সংযত, অথচ গভীর আবেগে ভরা। হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। কেউ কিছু বলেননি, বলারও প্রয়োজন ছিল না। সবাই জানতেন, এই গোলের মূল্য শুধু স্কোরবোর্ডে লেখা একটি সংখ্যা নয়।

কিন্তু ফুটবল সব সময় রূপকথা লিখে না। যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। অতিরিক্ত সময়েও ফল না বদলানোয় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় উঠে যায় মরক্কো। আর টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে টাইব্রেকারের অভিশাপে বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।

তাই দিনের শেষে গাকপোর গোলও রক্ষা করতে পারেনি ডাচদের। যে মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনের অকল্পনীয় শোক বুকে নিয়ে মাঠে নেমে দলের জন্য লড়লেন, তাঁর চোখে শেষ পর্যন্ত আনন্দ নয়, ছিল শুধুই অপূর্ণতার বেদনা। ফুটবল ইতিহাস হয়তো এই ম্যাচকে মনে রাখবে মরক্কোর জয়ের জন্য। কিন্তু অনেকের হৃদয়ে এই রাত চিরকাল বেঁচে থাকবে আরেকটি কারণে—একজন সন্তানহারা বাবার অদম্য মানসিক শক্তি, যিনি কান্না লুকিয়ে দেশের জন্য গোল করেছিলেন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More