Karmabhoomi Express Fire: বেলা ১টা নাগাদ ট্রেনটি পাঞ্জাবের রাজপুরা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছতেই ইঞ্জিনের পর থেকে পঞ্চম কামরাটিতে প্রথম আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখান থেকে অত্যন্ত দ্রুত পাশের আরও তিনটি কামরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা।
Karmabhoomi Express Fire: চলন্ত ট্রেনেই ভয়াবহ অগিকাণ্ড। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে বাংলার নিউ জলপাইগুড়িগামী যাত্রীবাহী ট্রেন ‘কর্মভূমি এক্সপ্রেস’-এর একরের পর এক কামরায় আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুক্রবার পাঞ্জাবের রায়পুরার কাছে চলন্ত এই ট্রেনটিতে হঠাৎই আগুন লেগে যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি-সহ অন্তত ৫টি কামরায় আগুন গ্রাস করেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর এখনও স্পষ্ট নয়।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার রাজপুরার কাছে সরাই বাঞ্জারা গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ১২৫০৮ কর্মভূমি এক্সপ্রেস শুক্রবার নির্ধারিত সময়েই অমৃতসর থেকে জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিওয়েছিল। বেলা ১টা নাগাদ ট্রেনটি পাঞ্জাবের রাজপুরা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছতেই ইঞ্জিনের পর থেকে পঞ্চম কামরাটিতে প্রথম আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখান থেকে অত্যন্ত দ্রুত পাশের আরও তিনটি কামরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিনটিও। চলন্ত ট্রেনে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার শুরু হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক যাত্রী ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই লাফিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ছবি ও ভিডিওতে আগুন ও ধোঁয়ার বীভৎসতা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের কামরা থেকে ঘন ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ঘটনার খবর পেতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও অম্বালা ডিভিশনের পদস্থ রেল আধিকারিকেরা। বেশ কিছুক্ষণের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট খবর পাওয়া যায়নি। আগুনে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পটিয়ালার ডিসি হিমাংশু আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুমান প্যান্ট্রি কার বা শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপুল আগুন ছড়ায়। আবার রেল পুলিশের এসএইচও গুরপ্রীত সিং জানান, একটি কামরার ফ্যানে শর্ট সার্কিট হওয়ার ফলেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের আসল ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অম্বালা ডিভিশনের প্রবীণ রেল কর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে বড়সড় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনটির অন্তত চারটি কামরা সম্পূর্ণ দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটিকে আর নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) নিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ওই ট্রেনের সমস্ত যাত্রীদের সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের জলপাইগুড়ি-সহ নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট লাইনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।