First Hydrogen Train in India: ভারতের রেলে ইতিহাস! মোদীর হাত ধরে ছুটল প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন

এই প্রথম ভারতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। ফলে বায়ুদূষণ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

Published on: Jul 17, 2026, 12:21:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

First Hydrogen Train in India: ভারতের রেল পরিবহণে নতুন যুগের সূচনা হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করলেন। উত্তর রেলের অধীনে হরিয়ানার ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে এই অত্যাধুনিক ট্রেন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রেলকে কার্বনমুক্ত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রথম ভারতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। (@NarendraModi)
এই প্রথম ভারতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। (@NarendraModi)

এই প্রথম ভারতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। ফলে বায়ুদূষণ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ এবং রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে।

উদ্বোধনের আগে সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, ভারত বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিল, যেখানে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ রেল পরিষেবায় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন রুটে পরিবেশবান্ধব ট্রেন চালুর পরিকল্পনায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১০ কোচের এই ট্রেনে প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। ট্রেনটি ১২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেমে চলবে। এর সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার হলেও নকশা অনুযায়ী ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতকে সংযুক্ত করবে এই ট্রেন। এছাড়া জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্ডারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুতানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরা হল্ট, লাঠ হল্ট, মোহানা, বারওয়াসনি হল্ট এবং সোনিপত নিউ-সহ একাধিক স্টেশনে ট্রেনটির নির্ধারিত স্টপেজ থাকবে।

হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর মাধ্যমে ভারত এখন জার্মানি, জাপান, চিন এবং আমেরিকার মতো দেশের তালিকায় নাম লেখাল। এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জার্মানিই পথপ্রদর্শক। ২০২২ সালে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন ‘আলস্টম কোরাডিয়া আইলিন্ট’ একবারও রিফুয়েলিং না করে ১,১৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে জার্মানি আরও কয়েকটি হাইড্রোজেন ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণের কাজ করছে।

অন্যদিকে, জাপান ২০২৭ সালের মধ্যে ‘হাইবারি’ নামে প্রথম হাইড্রোজেন হাইব্রিড ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করেছে। আমেরিকাও ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘জেমু’ নামে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় রেলে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু পরিবেশ দূষণ কমাবে না, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির বিকল্প উৎস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে জোর দিয়ে ভারত যে টেকসই উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগোল, এই প্রকল্প তারই বড় উদাহরণ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More