Nepal Flash Flood: হিমালয়ের কোলে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড়ি নদীর তোড়ে নিশ্চিহ্ন বহু বাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৪

Nepal Flash Flood: রবিবার ভোর আনুমানিক চারটে নাগাদ প্রবল গর্জনে কেঁপে ওঠে বুড়ি গণ্ডকী নদীর অববাহিকা। অন্ধকার ভেদ করে বিশাল তোড়ে নেমে আসা পাহাড়ি জলের শব্দ শুনেই সতর্ক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

Published on: Oct 11, 2026, 12:10:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Nepal Flash Flood: প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে ফের হার মানল হিমালয় সংলগ্ন লোকালয়। রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই নেপালের (Nepal) গোর্খা জেলায় আছড়ে পড়ল এক ধ্বংসাত্মক হড়পা বান। প্রমত্তা বুড়ি গণ্ডকী নদীর (Budhi gandaki river) তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল একাধিক ঘরবাড়ি ও পারাপারের ঝুলন্ত সেতু। প্রাণ বাঁচাতে পরনের পোশাকটুকু সম্বল করেই নিরাপদ আশ্রয় ছুটেছেন উপত্যকার বাসিন্দারা। প্রাথমিকভাবে প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতেই চারজন বাসিন্দার নিখোঁজ (Missing Villagers) হওয়ার খবর সামনে এসেছে।

হিমালয়ের কোলে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড়ি নদীর তোড়ে নিশ্চিহ্ন বহু বাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৪ (Nepal Army via AP)
হিমালয়ের কোলে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড়ি নদীর তোড়ে নিশ্চিহ্ন বহু বাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৪ (Nepal Army via AP)

গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের জেরে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘরছাড়া হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। সেই ধাক্কা সহ্য করে ওঠার আগেই আবার বিপর্যয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর আনুমানিক চারটে নাগাদ প্রবল গর্জনে কেঁপে ওঠে বুড়ি গণ্ডকী নদীর অববাহিকা। অন্ধকার ভেদ করে বিশাল তোড়ে নেমে আসা পাহাড়ি জলের শব্দ শুনেই সতর্ক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিপদের গন্ধ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি ও হোটেলের আসবাবপত্র ফেলেই উঁচু পাহাড়ি এলাকার দিকে দৌড়ান গ্রামবাসী ও ঘুরতে আসা পর্যটকেরা। নিমেষেই আশেপাশের সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করে ওই জলস্রোত। প্রাতঃকালে জলস্তর ক্রমাগত নামা-ওঠা করায় নদী সংলগ্ন সল্লেরি, পাইয়ুকা ও জগৎ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশাসনিক প্রধান রামকুমার গুরুং আফসোসের সুরেই জানান, নদীর জল এত দ্রুত বাড়ে যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানো ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। এমনকী যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা দুটি ঝুলন্ত সেতুও জলের তোড়ে ছিঁড়ে ভেসে গিয়েছে।

কেন হড়পা বান এল?

দুযোগের উৎস খুঁজতে গিয়ে প্রশাসনের কর্তারাও ধন্দে পড়েছেন। গোর্খার প্রশাসনিক প্রধান ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্রের অনুমান, সিউরিবাসের ঊর্ধ্বাঞ্চলে পাহাড়ের বিশাল ধস নেমেই নদীতে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করেছিল। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে ধসের জেরে গঠিত হওয়া সেই অস্থায়ী জলাধার ভাঙার ফলেই ভোররাতে নিম্ন অববাহিকায় এমন প্রলয়ংকারী পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই গোর্খা, ধাদিং ও চিতোয়ানের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধার করা এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজে সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টার নামানো হয়েছে। নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (National Disaster Risk Reduction & Management Authority) তরফেও হড়পা বান ও তার জেরে প্রভাবিত অঞ্চলের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

কোথায়, কত ক্ষয়ক্ষতি?

হড়পা বানের জেরে বর্তমানে গোর্খা, ধাদিং ও চিতোয়ান, তানাহুনের নদী-পাড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী-পাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল প্রশাসন। গোর্খা জেলার সালেরি অঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। হড়পা বানে এখনও ৩৫টি বাড়ি ভেসে গিয়েছে। ১টি লোহার ব্রিজ, ২টি সাসপেনশন ব্রিজ ভেঙেছে। বুড়ি গণ্ডকি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় লোকপা গ্রামের বাসিন্দা শেরাপ গুরুং নিশ্চিত করেছেন যে সকাল থেকে তাঁদের চারজন প্রতিবেশীর সন্ধান মিলছে না। গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করলেও এখনও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। এর আগে গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভোটেকোশী নদীর আকস্মিক বান ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বহু লোকালয় ও অবকাঠামো। সেই ক্ষত শুকোনোর আগেই আবার বুড়ি গণ্ডকীর এই তাণ্ডব হিমালয়ের পাহাড়ি জনপদগুলির নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল।