Dubai-Tel Aviv Fligh: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমান হাইজ্যাক? কোড পাঠালেন পাইলটরা, সৌদিতে জরুরি অবতরণ

Dubai-Tel Aviv Fligh: এই জোড়া সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দেশটির বিমান বাহিনী তৎপর হয়ে যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে উড়িয়ে দেয়।

Updated on: Sep 30, 2026, 13:38:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Dubai-Tel Aviv Fligh: বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমান মাঝ আকাশে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ে। বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে প্রথমে আশঙ্কা তৈরি হয়। এফজেড১০৭৩ (FZ1073) নম্বরের ওই ফ্লাইটে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি ব্যবহারের সময় এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে, যাতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, সৌদি আরবের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর উড়ানটির পক্ষ থেকে দুটি পৃথক জরুরি কোড বা সংকেত পাঠানো হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ইজরায়েলও পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। পরে অবশ্য জানা যায়, কোনও হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমান হাইজ্যাক? কোড পাঠালেন পাইলটরা, সৌদিতে জরুরি অবতরণ (AP Photo/Malak Harb)
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমান হাইজ্যাক? কোড পাঠালেন পাইলটরা, সৌদিতে জরুরি অবতরণ (AP Photo/Malak Harb)

প্রাথমিকভাবে বিমানটি ‘৭৭০০’ স্কোয়াউক কোডটি প্রেরণ করে, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার প্রথাগত আন্তর্জাতিক সংকেত হিসেবে পরিচিত। এর মাত্র কয়েক মুহূর্ত পরেই আরও একটি গুরুতর কোড অর্থাৎ ‘৭৫০ডব্লিউ’ বা ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়, যা সাধারণত বিমানটিতে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের মতো পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই জোড়া সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দেশটির বিমান বাহিনী তৎপর হয়ে যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে উড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির জেরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ তড়িঘড়ি একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে বসেন। একাধিক প্রতিবেদন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে প্রচণ্ড হাতাহাতি ও বিবাদের কারণেই এই আপৎকালীন সিগন্যাল সক্রিয় করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ‘টাইমস অফ ইজরায়েল’-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, বিমান ছিনতাই বা হাইজ্যাকের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং সেই আশঙ্কা পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ককপিটে চালকদের মধ্যে কোনও অপ্রীতিকর বা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে এই জরুরি সংকেতগুলো সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে, যদিও এই পথ পরিবর্তন এবং জরুরি সংকেত পাঠানোর নেপথ্যের মূল এবং দাপ্তরিক কারণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের মাটিতে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং ফ্লাইট রাডার কর্তৃপক্ষ এই সমগ্র ঘটনার টাইমলাইন বা সময়পঞ্জী প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী ও কর্মীবৃন্দ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন। এই অস্বাভাবিক ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং বিষয়টি নিরাপত্তাজনিত শৃঙ্খলাভঙ্গ কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তেল আভিভগামী বিমান হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।