Flydubai Incident Latest Update: নিজের জীবন বাজি রেখে ১৭৪ প্রাণ বাঁচান, স্মিত মচ্ছারকে সম্মান মার্কিন কংগ্রেসে

মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্মিত মচ্ছারকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার। তাঁর সঙ্গে প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন। ৫ অক্টোবর প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। পরে তা বিদেশ বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

Updated on: Oct 7, 2026, 08:25:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বিমানের ভিতরে তখন তীব্র আতঙ্ক। ককপিটে হামলা। নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বিমান। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেই মুহূর্তে নিজের কথা না ভেবে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর সেই সাহসের স্বীকৃতি এবার পৌঁছে গেল মার্কিন কংগ্রেসে।

মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্মিত মচ্ছারকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার। (via REUTERS)
মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্মিত মচ্ছারকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার। (via REUTERS)

মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্মিত মচ্ছারকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার। তাঁর সঙ্গে প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন। ৫ অক্টোবর প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। পরে তা বিদেশ বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে শুধু স্মিত মচ্ছারের সাহসের প্রশংসা করা হয়নি। ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে যে অফ ডিউটি পাইলটরা সাহায্য করেছিলেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। প্রশংসা করা হয়েছে কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের ভূমিকাও। তাঁদের সম্মিলিত চেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বরের। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমান। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী। মাঝ আকাশে আচমকাই সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন। তাঁর হাতে ছিল ককপিটে থাকা জরুরি ক্র্যাশ অ্যাক্স। অভিযোগ, সেই অস্ত্র দিয়েই তিনি স্মিতকে গুরুতর আহত করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলেন স্মিত। তবু তিনি বুঝতে পারেন, বিমান দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সেই অবস্থাতেই ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। দরজা খোলার সুযোগ পেয়ে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে দুই রিজার্ভ পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।

স্মিতকে প্রথমে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর হামলার উদ্দেশ্য এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামামির বিরুদ্ধে আগে থেকেই চরমপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ ছিল এবং ওমানে তাঁকে উড়ান থেকে বিরতও রাখা হয়েছিল।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার উপর হামলা এবং সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে তদন্তের সব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

একটি বিমানে কয়েকশো প্রাণ। এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যেতে পারত। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন স্মিত মচ্ছার। গুরুতর আহত হয়েও তিনি ককপিটের দরজা খুলেছিলেন। সেই সাহসেই বেঁচে যান বিমানের যাত্রীরা। এবার সেই বীরত্বের স্বীকৃতি মিলল আমেরিকার সংসদে। ভারতীয় পাইলটের সেই সাহস আজ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More