FlyDubai Latest Details: ওমানি পাইলটকে ছেড়ে দিতে চাপ! ফ্লাইদুবাই বিমানের কর্মীদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের বিস্ফোরক অভিযোগ
দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। আচমকাই ককপিটে পরিস্থিতি বদলে যায়। যাত্রীদের বয়ান অনুযায়ী, ওমানের পাইলট হামাম আল হামামি বিমানটির গতিপথ অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ হয়। সহ পাইলট ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্মিত মচ্ছর বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। এক পাইলটের আচরণ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর পর তাঁকে পাকড়াও করে হাত পা বেঁধে ফেলেছিলেন বিমানের কয়েক জন যাত্রী। তাঁদের দাবি, ওই পাইলটকে ককপিট থেকে সরিয়ে আটকানোর পরও বিপদ কাটেনি। কারণ, বিমানেরই কয়েক জন কর্মী নাকি এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেছিলেন। যাত্রীদের এই অভিযোগ ঘিরে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার। দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। আচমকাই ককপিটে পরিস্থিতি বদলে যায়। যাত্রীদের বয়ান অনুযায়ী, ওমানের পাইলট হামাম আল হামামি বিমানটির গতিপথ অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ হয়। সহ পাইলট ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্মিত মচ্ছর বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এর পরেই হামাম নাকি ককপিটে থাকা একটি কুঠার দিয়ে স্মিতের উপর হামলা করেন। মাথায় আঘাত পেলেও স্মিত কোনও মতে ককপিটের দরজা খুলে দেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। আর কোনও বিপদ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তাঁরা পাইলটের হাত পা বেঁধে দেন।
সেই সময়ই নাকি শুরু হয় নতুন বিতর্ক। বিমানে থাকা যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটারের দাবি, চার জন যাত্রী মিলে হামামকে শক্ত করে আটকে রাখেন। হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাঁদের কথায়, তখন বিমানের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।
কিন্তু অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন ককপিটে এসে হামামকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলতে থাকেন। যাত্রীরা সেই দাবি মানতে চাননি। কেন এমন এক জন পাইলটকে ছাড়া হবে, যাঁকে তাঁরা কিছুক্ষণ আগেই নিয়ন্ত্রণে এনেছেন, সেটাই তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
জিকা মানেসের দাবি, কর্মীদের তরফ থেকে বার বার হামামের বাঁধন খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হামামকে তাঁরা এমন এক জন মানুষ হিসাবেই দেখেছিলেন, যিনি বিমানের যাত্রীদের ভয়াবহ বিপদের মধ্যে ফেলে দিতে পারতেন।
তবে বিমানের অন্য কর্মীরা কেন হামামকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলেও জানা যায়নি। ফ্লাইদুবাইয়ের তরফ থেকেও যাত্রীদের এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ফলে ঘটনার পর তদন্তের মুখে এখন শুধু হামামের আচরণ নয়, বিমানের ভিতরের গোটা ব্যবস্থাই। হামামকে আটকানো না হলে কী ঘটতে পারত, আর কেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বিমানের কর্মীদের মধ্যে কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবশ্য সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


