White House: হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক পদে বড় রদবদল, চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে ট্রাম্পের বিশ্বস্ত সেনাপতি স্টিফেন মিলার

White House: হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টার পদবি থাকা স্টিফেন মিলার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সহযোগীদের একজন। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে বক্তৃতা লেখক হিসেবে তাঁর দলে যোগ দেন তিনি।

Published on: Nov 7, 2026, 19:30:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

White House: মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের জেরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আনলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন সংসদের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ বদল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এমন একজনকে আনলেন যিনি কট্টর অভিবাসন বিরোধী হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি তৈরি ক্ষেত্রে গুরুত্ব ভূমিকাও নিয়েছেন। আগামীদিনে আরও রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বস্ত সেনাপতি স্টিফেন মিলার (AFP)
চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বস্ত সেনাপতি স্টিফেন মিলার (AFP)

এতদিন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ-এর দায়িত্ব সামলেছেন সুজি ওয়াইলস। এবার তাঁর ডেপুটি স্টিফেন মিলারকে (Stephen Miller) চিফ অব স্টাফ পদে বসালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকছেন সুসি ওয়াইলস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী দলে যুক্ত হবেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রথম নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি ছিলেন ওয়াইলস। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম মহিলাও তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং আমার অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার আগামী সোমবার, (৯ নভেম্বর) থেকে চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব নেবেন। অসাধারণ কাজ করা সুজি ওয়াইলস এখন ‘ট্রাম্প পলিটিক্যাল অপারেশন’-এ যোগ দিচ্ছেন। চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি দারুণ কাজ করেছেন।’

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ওয়াইলসও একটি বিবৃতি দেন। তিনি লেখেন, ‘আজ হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে আমার শেষ দিন। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে কাজ করা আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। সীমান্ত সুরক্ষিত করা, কর কমানো, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন-সহ আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।’ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি নিজের অঙ্গীকারে কোনও পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান ওয়াইলস। সোমবার দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্সিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াইলস। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম চার বছরের মেয়াদে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন চারজন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে সরিয়ে দিতে পারেন তিনি। এ ছাড়া বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে রুবিওর দায়িত্ব ছাড়ার খবর অস্বীকার করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। এক সিনিয়র কর্মকর্তা এটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভুয়ো খবর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

কে এই স্টিফেন মিলার?

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টার পদবি থাকা স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সহযোগীদের একজন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে বক্তৃতা লেখক হিসেবে তাঁর দলে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত মিলার। গত জানুয়ারিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ট্রাম্পের দলে যোগ দেওয়ার আগে আলাবামার প্রাক্তন রিপাবলিকান সিনেটর জেফ সেশনসের হয়ে কাজ করেছিলেন মিলার। পরে সেশনস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।