AI Failure in Ford: পুরনো চাল ভাতে বাড়ে! চরম ব্যর্থ AI, পুরনো কর্মীদের ফের নিয়োগ মার্কিন গাড়ি নির্মাণ সংস্থার
AI Failure in Ford: সংস্থার ভেহিকেল হার্ডঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট চার্লস পুন বলেন, ‘এআইয়ের ব্যাপারে অতি মূল্যায়ন করে ফেলা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি সমস্ত সমস্যার মুশকিল আসান, তা ভাবা ঠিক নয়। তাই ফের মানবদক্ষতার উপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।’
AI Failure in Ford: কথায় আছে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। সেটাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিখ্যাত মার্কিন গাড়ি নির্মাণ সংস্থা ফোর্ড। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংস্ক্রিয় ব্যবস্থা আশানুরূপ ফলাফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর, এবার প্রাক্তন ও দক্ষ কর্মী-সহ ইঞ্জিনিয়ারদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ফোর্ড। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে পুনরায় কাজে লাগানোর এই কৌশল ইতিমধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য এনে দিতে শুরু করেছে।

গাড়ি ও প্রযুক্তির গুণগত মান যাচাইকারী ১খ্যাত সংস্থা ‘জেডি পাওয়ার’-এর সাম্প্রতিক ‘ইনিশিয়াল কোয়ালিটি সার্ভে’ বা প্রাথমিক গুণগত মান সমীক্ষায় সমস্ত মূলধারার গাড়ি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফোর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের এই ‘কামব্যাক’ বা প্রত্যাবর্তন যেমন গাড়ির গুণগত মানকে সেরার দরবারে পৌঁছে দিয়েছে, ঠিক তেমনই উৎপাদন ও পরিচালনা ব্যায় কমাতেও উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে ধাপে ধাপে প্রাক্তন কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার মিলিয়ে অন্তত ৩৫০ জনকে কাজে পুনর্বহাল করেছে ফোর্ড। বিশ্লেষকদের দাবি, গাড়ির প্রযুক্তিগত মান বুঝতে কৃত্রিম মেধার উপর অতিরিক্ত নির্ভর এবং কর্মীদের কয়েক দশকের প্রকৌশলগত দক্ষতাকে উপেক্ষা করেছিল ফোর্ড। সেটাই বিপদে ফেলে তাদের।
সংস্থার ভেহিকেল হার্ডঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট চার্লস পুন বলেন, ‘এআইয়ের ব্যাপারে অতি মূল্যায়ন করে ফেলা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি সমস্ত সমস্যার মুশকিল আসান, তা ভাবা ঠিক নয়। তাই ফের মানবদক্ষতার উপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একটি 'চমৎকার হাতিয়ার' হলেও, 'একে প্রশিক্ষিত বা ট্রেন করার জন্য আপনি ঠিক কী ধরণের তথ্য ব্যবহার করছেন-এআই-এর কার্যকারিতা ঠিক ততটাই নিখুঁত হবে।' তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, ফোর্ডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা কোম্পানি ছাড়ার আগে তাঁদের সেই সঞ্চিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে ধরে রাখার বা সংরক্ষণ করার জন্য ফোর্ড কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ফলস্বরূপ, ফোর্ডের স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমগুলোর কাছে গাড়ির উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম দিকেই সম্ভাব্য ত্রুটি বা সমস্যাগুলো শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত ‘বাস্তব দক্ষতার’ অভাব ছিল। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য ফোর্ড ইতিমধ্যেই ৩৫০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে কোম্পানিতে ফিরিয়ে এনেছে। সংস্থার অভ্যন্তরে এই অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের আদর করে 'গ্রে বেয়ার্ড' ইঞ্জিনিয়ার বলে ডাকা হচ্ছে। এই অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা এখন তরুণ কর্মীদের মেন্টরিং বা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, ফোর্ডের এআই টুলগুলোকে নতুন করে আরও নিখুঁতভাবে ট্রেইন করতে সাহায্য করছেন এবং ফ্যাক্টরি থেকে গাড়ি বাজারে ছাড়ার আগেই সব ধরণের গুণগত ত্রুটি বা ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট খুঁজে বের করছেন।
ফোর্ডের চিফ অপারেটিং অফিসার, কুমার গালহোত্রা বলেছেন, কোম্পানিটি স্বয়ংক্রিয় মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, কিন্তু ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিল না। তাই, উৎপাদন লাইনে যন্ত্রাংশ পাঠানোর আগেই ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য ফোর্ড প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ফিরিয়ে এনেছে। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারেরা সংস্থা ছাড়ার সময় তাঁদের জ্ঞান সংরক্ষণের জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তা ছাড়া নতুন গাড়ির নকশা কখনওই কৃত্রিম মেধার সাহায্যে পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ, সেখানে গবেষণার সঙ্গে কল্পনার একটা মিশেল তৈরি করে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার। এআই কখনওই তা পারবে না। সংস্থা সূত্রে খবর, ফোর্ড গাড়ির প্রযুক্তিগত বদল শুধুমাত্র হার্ডঅয়্যারে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে সফ্টঅয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেখানেও কৃত্রিম মেধা যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে, এমনটা নয়। তাই ৪০ জনের বিশেষ একটি দল তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে তারা। ফোর্ডের সিইও জিম ফার্লি বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পুনরায় নিয়োগের ফলে ওয়ারেন্টি এবং রিকল খরচ কমাতে সাহায্য হয়েছে, যা কোম্পানির শত শত মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে।
E-Paper

