রাজনৈতিক মঞ্চ ছেড়ে ক্লাসরুমে, শিক্ষকতায় ফিরলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ
ত্রিপুরার ধলাই জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রেবতী ত্রিপুরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর ২০০১ সালে আগরতলার মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতা করতে করতেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ। পরে ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন তিনি।
রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। একসময় স্কুলশিক্ষক ছিলেন তিনি। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সাংসদ হন। তবে রাজনৈতিক জীবনে কার্যত বিরতি আসার পর আবার নিজের পুরনো পেশায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি তাঁর জীবনের মূল পরিচয়। পাশাপাশি এই পেশায় ফিরলে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

ত্রিপুরার ধলাই জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রেবতী ত্রিপুরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর ২০০১ সালে আগরতলার মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতা করতে করতেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সুযোগ আসে ২০১৪ সালে, যখন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।
দলের হয়ে কাজ করার পর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে পূর্ব ত্রিপুরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সাংসদ হন। সংসদ সদস্য হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়।
সেই নির্বাচনে বিজেপি আর তাঁকে প্রার্থী করেনি। পরিবর্তে পূর্ব ত্রিপুরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয় ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য এবং টিপরা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের বোন কৃতি দেবী দেববর্মনকে। এরপর থেকেই রেবতী ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভূমিকা অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। তিনি বিজেপির ত্রিপুরা শাখার কোর কমিটির সদস্য থাকলেও গত প্রায় আড়াই বছরে দলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজেপির রাজ্য পদাধিকারীদের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে তিনি আবার শিক্ষকতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২০ জুলাই তিনি আগের স্কুলেই পুনরায় কাজে যোগ দেন। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেবতী ত্রিপুরা বলেন, গত আড়াই বছরে কোর কমিটির সদস্য হলেও তাঁর হাতে তেমন কোনও কাজ ছিল না। শুধু বিজেপির জনজাতি মোর্চার একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে দলের পক্ষ থেকে কোনও বিশেষ দায়িত্ব না থাকায় তিনি আবার সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে ফিরেছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যদি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারেন, তাহলে শিক্ষকতাই চালিয়ে যেতে চান। তবে যদি মনে হয় এই পরিবেশে আর স্বচ্ছন্দ নন, তাহলে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন। তাঁর মতে, সরকারি চাকরিতে ফিরে আসার বড় সুবিধা হল অবসরের পর পেনশন-সহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, অবসরের পরে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ভরসা।
এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষও রেবতী ত্রিপুরার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক টিটু সাহা জানান, কাজে ফেরার পর থেকেই রেবতী ত্রিপুরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। সহকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও তিনি খুব দ্রুত ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। স্কুলের সকলেই তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
রাজনীতি থেকে আবার শিক্ষকতার পেশায় ফেরা রেবতী ত্রিপুরার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য, জীবনে রাজনৈতিক দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সমাজ গঠনে একজন শিক্ষকের ভূমিকাও সমান মূল্যবান। তাই নতুন করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে তিনি আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


