Nirav Modi: ভারত 'অত্যন্ত ক্ষুব্ধ!' নীরব মোদীকে নিয়ে বিস্ফোরক ব্রিটেনের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Nirav Modi: 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর পডকাস্ট সিরিজ দ্য ডায়মন্ড কিং-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রীতি প্যাটেল বলেন, নীরব মোদীকে প্রত্যর্পণ না করায় ভারত ব্রিটেনে থাকা হাজার হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছে।
Nirav Modi: ভারতে ব্যাঙ্কে আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত নীরব মোদী এখনও ব্রিটেনে থাকায় তিনি ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত।’ একটি পডকাস্টে এমনই দাবি করেছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। তিনি জানান, ২০২১ সালে আদালত প্রত্যর্পণের প্রাথমিক ভিত্তি স্বীকার করার পরেই তিনিই নীরব মোদীকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশে সই করেছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতায় পাঁচ বছরেও তা হয়নি।

'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর পডকাস্ট সিরিজ দ্য ডায়মন্ড কিং-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রীতি প্যাটেল বলেন, নীরব মোদীকে প্রত্যর্পণ না করায় ভারত ব্রিটেনে থাকা হাজার হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছে। পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী বর্তমানে লন্ডনের পেন্টনভিল কারাগারে বন্দি এবং প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রীতি প্যাটেল বলেন, লন্ডনে গ্রেফতারের সাত বছরেরও বেশি সময় পরও নীরব মোদীকে ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় ভারত সরকার 'অত্যন্ত ক্ষুব্ধ' ছিল। তাঁর দাবি, এই ক্ষোভের প্রতিক্রিয়াতেই দিল্লি ব্রিটেনের অভিবাসন প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা কমিয়ে দেয়। প্রীতি প্যাটেলের বক্তব্য, তাঁর দায়িত্বকালে ভারতীয় নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা হতো এবং ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী চার্টার ফ্লাইট গ্রহণেও ভারত অনীহা দেখাত।
প্রীতির নিজের কথায়, ‘ব্রিটেনে বিপুল সংখ্যক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ফেরত পাঠাতে গিয়ে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নীরব মোদীর বহুল আলোচিত মামলাই এর অন্যতম কারণ।’ তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ভারতের সম্মতি আদায় করা ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, নীরব মোদী ও অন্যান্য আলোচিত প্রত্যর্পণ মামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ব্রিটেনের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে বিষয়টি ব্যবহার করেছিল। প্রীতির সাফ কথা, ‘নীরব মোদীর ভারতের জেলেই থাকা উচিত।’ ২০১৯ সালে লন্ডনে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে নীরব মোদী ব্রিটেনের কারাগারে রয়েছেন এবং প্রত্যর্পণ ঠেকাতে একাধিক আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে প্রীতি প্যাটেল তার প্রত্যর্পণে অনুমোদন দিলেও মামলাটি এখনও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের আশ্রয়ের আবেদনও করেছিলেন, যা হোম অফিস ও আদালত উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যর্পণ এড়াতে আইনি লড়াই লড়ছেন নীরব। অভিযোগ, এর জন্য ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি খরচ করে ফেলেছেন তিনি। ব্রিটেনে বর্তমানে ঠিক কতজন অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী রয়েছেন, তার কোনও সরকারি হিসাব নেই। ২০১৮-য় প্রায় এক লক্ষ অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও সেই সংখ্যাকে তখনই চ্যালেঞ্জ করেছিল নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, ২০২১-র মে মাসে মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি চুক্তি সই করে ভারত ও ব্রিটেন। চুক্তি অনুযায়ী, দুই পক্ষই একে অন্যের দেশে থাকা অবৈধ বসবাসকারী ফিরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবে।
E-Paper

