Ex Envoy on SIR: '৩টি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছি...,' এসআইআর নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত

Ex Envoy on SIR: শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। এটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা আলাদা হলেও, একে কোনওভাবেই বেআইনি বা অসাংবিধানিক বলা যায় না।

Published on: Aug 23, 2026, 23:52:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ex Envoy on SIR: ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চালু করা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর ও অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নভদীপ সুরি। তিন-তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরও ভোটার তালিকায় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য 'অনির্দিষ্ট নথি' চাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন এই প্রবীণ কূটনীতিক।

এসআইআর নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত (সৌজন্যে টুইটার)
এসআইআর নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত (সৌজন্যে টুইটার)

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ পরপর কয়েকটি পোস্টে পাঞ্জাবে নিজের এই হয়রানির অভিজ্ঞতা বিশদে তুলে ধরেছেন নভদীপ সুরির মতো উচ্চপদস্থ প্রাক্তন আমলা। এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'পাঞ্জাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছি। আমি বিএলও (Booth Level Officer)-এর কাছে গিয়ে ভোটার আইডি ও আধার কার্ড জমা দিয়েছিলাম এবং আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। অথচ আজ এক ভলান্টিয়ারের কাছ থেকে মেসেজ পেলাম যে ২০০৩ সালের এসআইআর (SIR)-এর সঙ্গে কিছু তথ্য মিলছে না!'

তিনি আরও বলেন, 'বিএলও-র সঙ্গে কথা বলেছি, আমাকে বলা হয়েছে এসে নোটিশটি নিয়ে যেতে। এবং তারপর আমি যে একজন ভারতীয় নাগরিক, তা প্রমাণ করে এমন কিছু অনির্দিষ্ট নথিপত্র নিয়ে আবার আসতে। উত্তরে জানিয়েছি যে আমি ২০০৩ সালে ভারতে ছিলাম না, তাই তাঁরা প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট চেয়েছেন।' গোটা প্রক্রিয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাক্তন কূটনীতিক প্রশ্ন তোলেন, 'ভোটার আইডি ও আধার কার্ড ছাড়াও আমার কাছে অন্যান্য নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন না করে পারছি না: তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পর যদি আমার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতেই সমস্যা হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের কী হবে? একেই কী বলে, 'ইজ অফ লিভিং' (সহজ জীবনযাত্রা)!'

ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বাদ পড়া বা বিভ্রান্তি তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সাধারণত বিস্তারিত খতিয়ে দেখার পর এই বিষয়গুলির সমাধান করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে বিহারে প্রথম এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল, যার পর মৃত ব্যক্তি-সহ প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। এসআইআর-র নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত ভোটার ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় ছিলেন না, তাঁদের সেই পুরনো তালিকার সঙ্গে সংযোগকারী নথিপত্র দেখাতে হয়। শুরুতে নির্বাচন কমিশন আধার বাদ দিয়ে ১১টি নির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে আদালত আধার কার্ডকেও গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। এটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা আলাদা হলেও, একে কোনওভাবেই বেআইনি বা অসাংবিধানিক বলা যায় না।