Former Iranian President: মোসাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত! আইআরজিসির জালে বন্দি ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট: Report

Former Iranian President: প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা নজরে আসে। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলি হাঙ্গেরি সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে অদ্ভুত অনুরোধ পান। 

Published on: Jul 14, 2026, 23:57:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Former Iranian President: ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই পদক্ষেপ কার্যকর করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসির জালে বন্দি ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট: Report
আইআরজিসির জালে বন্দি ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট: Report

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েল দীর্ঘ বছর ধরে আহমেদিনেজাদকে একটি বড় গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে দলে টানার জন্য অত্যন্ত গোপন অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। ইজরায়েলের মূল পরিকল্পনা ছিল বর্তমান ইরানি শাসনের পতন ঘটিয়ে আহমেদিনেজাদকে সে দেশের পরবর্তী শীর্ষ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় বসানো।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা নজরে আসে। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলি হাঙ্গেরি সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে অদ্ভুত অনুরোধ পান। ওই কর্মকর্তা লুদোভিকা ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিসের রেক্টর অধ্যাপক ডেলিকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলন আয়োজন এবং সেখানে একজন অপ্রত্যাশিত অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর আহ্বান জানান। সেই অতিথি আর কেউ নন; তিনি হলেন ইরানের বহুল বিতর্কিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। তবে এর পেছনের কারণ ছিল আরও চমকপ্রদ। ওই কর্মকর্তা ডেলিকে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই সম্মেলন আসলে একটি ছদ্মবেশ বা ‘ফ্রন্ট’ মাত্র। এর মূল উদ্দেশ্য, হাঙ্গেরির রাজধানীতে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে তার কট্টর শত্রু ইজরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের ব্যবস্থা করা।

অধ্যাপক ডেলি জানতেন এই আমন্ত্রণ তাঁর নিজের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। কিন্তু এক সাক্ষাৎকারে ডেলি বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, এর মাধ্যমে হয়তো তিনি মানুষের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন। ডেলি বলেন, যখন দুটি শত্রু পক্ষ নিজেদের মধ্যে কথা বলতে চায়, তখন তাদের সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করাই শ্রেয়। এই অভিযানের সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এবং ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৪ সালে আহমেদিনেজাদের ওই বিশ্ববিদ্যালয় সফর এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় দফা সফরে যাওয়াটা ছিল ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ইজরায়েল মূলত আহমেদিনেজাদকে গোয়েন্দা সম্পদ বা ‘এজেন্ট’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল; যাতে সময় সুযোগ বুঝে তাঁকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে ক্ষমতায় বসানো যায়।

আহমেদিনেজাদকে ঘিরে ইজরায়েলের এই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। কারণ, এই আহমেদিনেজাদই তার শাসনকালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত, নিয়মিত ইজরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি এবং ইহুদি নিধনযজ্ঞ বা ‘হলোকোস্ট’ অস্বীকার করেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোপনে আহমেদিনেজাদের বাসভবন ও ভ্রমণ খরচের জন্য অর্থ প্রদান করেছিল ইজরায়েল। এমনকী বুদাপেস্ট সফর-সহ কয়েকবার বিদেশে ইজরায়েলি এজেন্টরা তাঁর সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন।

এই গোপন প্রচেষ্টা চূড়ান্ত রূপ নেয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে, যখন ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তেহরানে কঠোর নজরদারিতে থাকা এই প্রাক্তন নেতাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে আহমেদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা কার্যকর করাই ছিল ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবনে আঘাত হানে ইজরায়েলি বিমান। এই হামলার নিশানায় ছিল তার দেহরক্ষীদের ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি। ইরানের চারজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, হামলার পরপরই একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য থেকে আহমেদিনেজাদকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অভিযানের বিষয়ে অবগত মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের এজেন্টরা; যারা আহমেদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই একটি সেফ হাউসে নিয়ে যান।

তবে এই ঘটনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা বলেছেন, আকস্মিক ও হুলস্থুল উদ্ধার অভিযান নিয়ে আহমেদিনেজাদ বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন এবং ইজরায়েলের সহায়তায় পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর মোহভঙ্গ হয়। পরবর্তীতে এক রহস্যময় পরিস্থিতিতে সেই সেফ হাউস ত্যাগ করেন তিনি। এরপর থেকে গত সোমবারের আগে পর্যন্ত তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সোমবার ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখা যায় আহমেদিনেজাদকে। নিউ ইয়র্ক টাইমসে আহমেদিনেজাদের এই ভূমিকার কথা প্রথম ফাঁসের পর গত মে মাসে পিবিএসে টক শো ‘ফায়ারিং লাইনে’ ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান তামির হ্যায়ম্যান বলেছিলেন, এই সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় ‌বেশ কিছু অনন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয় এবং আহমেদিনেজাদ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ ছিলেন।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আহমেদিনেজাদ ছিলেন দেশটির সবচেয়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ। ইজরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কথা বলতেন তিনি এবং তার শাসনকালে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে; যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে ইরানের নির্বাচনে তাঁর পুনরায় অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করেছিলেন আহমেদিনেজাদ। এছাড়া, তাঁর শাসনকালে ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধীদের গণমৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর পরবর্তী বছরগুলোতে আহমেদিনেজাদ তার কট্টর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেন এবং ইজরায়েল-বিরোধী বক্তব্য দেওয়াও বন্ধ করে দেন। নিজেকে একজন উদারপন্থী হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইরানের পপ মিউজিক সংস্কৃতির প্রশংসা, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনের সমালোচনা এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এ নেতা।

সোমবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যে তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি সবাইকে অবাক করে দেয়। ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমের মধ্যেও তিনি ভারী জ্যাকেট এবং সার্জিক্যাল মাস্ক পরে জানাজায় অংশ নেন। আহমাদিনেজাদ সেখানে মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়।