ঋণের সোনা-টাকা ফেরত চাওয়ায় বিপত্তি! গুজরাটে মহিলাকে নৃশংস খুন প্রাক্তন পরিচারিকার
খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে শান্তি বেনের মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে ফেলা হয়। পরে সেটি পালনপুরের একটি পরিত্যক্ত শোরুমের বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেন তাঁরা।
অমানবিক, পাশবিক বললেও কম বলা হয়। গুজরাটের পালনপুরে ধার দেওয়া সোনা ও নগদ টাকা ফেরত চাওয়াতে এক মহিলাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন গৃহপরিচারিকার বিরুদ্ধে। গত ২২ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন শান্তি বেন আকেদিওয়ালা। পরে সূত্র ও ফরেন্সিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুরো ঘটনার পর্দা ফাঁস করে পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় ওই প্রাক্তন গৃহপরিচারিকা-সহ এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

বিশ্বাসঘতকতা
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১৫ বছর ধরে শান্তি বেনের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় ছিল মূল অভিযুক্ত রেখা রাঠোরের। প্রথমে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করলেও পরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এরপর নিজস্ব ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন রেখা। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় এক বছর আগে সেই ব্যবসার জন্য শান্তি বেনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না ও নগদ টাকা ধার নেন তিনি। কিছুদিন ধরে শান্তি বেন ধার দেওয়া সম্পত্তি ফেরত চাইছিলেন। সেই চাপ থেকেই মুক্তি পেতেই খুনের পরিকল্পনা করেন রেখা। গত ২২ মার্চ রাতে আলোচনার অজুহাতে রেখা নিজের ফার্নিচারের দোকানে ডেকে পাঠান শান্তি বেনকে। অভিযোগ, সেখানে প্রথমে তাঁকে মাদক খাইয়ে অচেতন করা হয়, তারপর নির্মমভাবে খুন করে রেখা এবং তাঁর চারজন সহযোগী।
পর্দা ফাঁস
খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে শান্তি বেনের মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে ফেলা হয়। পরে সেটি পালনপুরের একটি পরিত্যক্ত শোরুমের বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেন তাঁরা। এরপরেই শান্তি বেনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে গোপন সূত্রের খবর ও ফরেন্সিক তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং এই ঘটনার রেখার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এদিকে, শান্তি বেনের দেহ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁর পরিবার। মেয়ে ন্যান্সি ও বোন কৈলাশ বেন-সহ পরিবারের সদস্যরা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে এনে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। এমনকী প্রথমে শান্তি বেনের দেহ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন তাঁরা।
গ্রেফতার
বর্তমানে অভিযুক্ত রেখা রাঠোর ও এক সহযোগী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি তিনজনকে ধরতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ সোনার গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঠিক কী ধরনের মাদক ব্যবহার করা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
E-Paper

