ভারত-ফ্রান্সের বড় চুক্তি, হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি হবে ‘অরাবল্লী’ ইঞ্জিন

হ্যাল এবং ফ্রান্সের সাফরান হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদনের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই ইঞ্জিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অরাবল্লী’। যৌথ উদ্যোগ ‘সাফহ্যাল হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

Published on: Aug 26, 2026, 14:19:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দেশের নিজস্ব বিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা এইচএএল এবং ফ্রান্সের সাফরান হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদনের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই ইঞ্জিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অরাবল্লী’। যৌথ উদ্যোগ ‘সাফহ্যাল হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

হ্যাল এবং ফ্রান্সের সাফরান হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদনের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। (AFP)
হ্যাল এবং ফ্রান্সের সাফরান হেলিকপ্টার ইঞ্জিনস যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার ইঞ্জিন তৈরি ও উৎপাদনের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। (AFP)

চুক্তি অনুযায়ী, ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ শ্যাফ্ট হর্সপাওয়ার ক্ষমতার এই ইঞ্জিনের নকশা তৈরি, উন্নয়ন, উৎপাদন, সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে যৌথ উদ্যোগটির উপর। ভারতের ভবিষ্যৎ ১৩ টনের ‘ইন্ডিয়ান মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার’ বা আইএমআরএইচ-এ এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি এর নৌবাহিনীর সংস্করণ ‘ডেক-বেসড মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার’-এর জন্যও অরাবল্লী ইঞ্জিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হেলিকপ্টার ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, হেলিকপ্টারের মতো জটিল বিমান ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ইঞ্জিন। এতদিন এই ধরনের প্রযুক্তির জন্য ভারতকে বিদেশি সংস্থার উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে উন্নতমানের হেলিকপ্টার ইঞ্জিনের নকশা ও প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এইচএএল জানিয়েছে, অরাবল্লী ইঞ্জিন প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু একটি নির্দিষ্ট হেলিকপ্টারের প্রয়োজন মেটানো নয়। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিমান-ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হেলিকপ্টার তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী দেশীয় শিল্পভিত্তি তৈরি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইঞ্জিনটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের অন্যতম প্রাচীন পর্বতমালা অরাবল্লী পর্বতমালার নামে।

এইচএএল-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে জানিয়েছেন, এই চুক্তি ভারতের নিজস্ব বিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ। তাঁর মতে, সাফহ্যাল এবং সাফরানের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প ভবিষ্যতের ভারতীয় হেলিকপ্টারগুলির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরির ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি দেশের বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামোও আরও শক্তিশালী হবে।

সাফরান হেলিকপ্টার ইঞ্জিনসের প্রধান নির্বাহী সেড্রিক গোবে বলেন, এই প্রকল্প ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। দুই দেশের সংস্থার প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে একত্র করে ভবিষ্যতের ভারতীয় হেলিকপ্টারের জন্য বিশ্বমানের ইঞ্জিন তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, এই শ্রেণির ইঞ্জিনে সাফরানের জন্য এটিই প্রথম কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প।

অরাবল্লী প্রকল্পে উন্নত নকশা প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি, পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। আন্তর্জাতিক বিমানচালনা শিল্পের মান বজায় রেখে ইঞ্জিনটির কর্মক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সামরিক হেলিকপ্টারের জন্য তৈরি হলেও ভবিষ্যতে অসামরিক ক্ষেত্রেও এই ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। অফশোর পরিবহণ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা এবং ভিভিআইপি পরিবহণে এর ব্যবহার হতে পারে। একই সঙ্গে দেশে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল বা এমআরও পরিষেবার পরিকাঠামোও এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তে পারে।

এইচএএল ও সাফরানের সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। চিতা ও চেতক হেলিকপ্টারে ব্যবহৃত আর্তুশ্ত ইঞ্জিন থেকে শুরু করে শাক্তি ইঞ্জিন পর্যন্ত দীর্ঘদিনের যৌথ কাজ রয়েছে দুই সংস্থার। শাক্তি ইঞ্জিন বর্তমানে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার এবং লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারে ব্যবহৃত হয়।

অরাবল্লী প্রকল্প সেই পুরনো অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ভারতীয় চাহিদা মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছে দুই সংস্থা। ফলে এই চুক্তিকে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প, বিমান প্রযুক্তি এবং ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More