Food Safety: দুধের তৈরি না হলে বলা যাবেনা 'পনির!' উদ্ভিজ্জ তেল-চর্বির অ্যানালগ পনিরে লাগাম FSSAI-র
Food Safety: ২০১১ সালের ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (প্রোহিবিশন অ্যান্ড রেস্ট্রিকশনস অন সেলস) রেগুলেশনস’-এ সংশোধনের জন্য সম্প্রতি একটি খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
Food Safety: পনির কিনছেন, কিন্তু সেটি আদৌ দুধে তৈরি কিনা—এবার সেই বিষয়ে আরও কড়া নিয়ম আনার প্রস্তাব করল কেন্দ্রীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। দুধের বদলে উদ্ভিজ্জ তেল বা অন্য নন-ডেয়ারি উপাদান দিয়ে তৈরি অ্যানালগ পনিরকে ‘পনির’ নামে বাজারজাত করা বন্ধ করতে নতুন নিয়মের খসড়া প্রকাশ করেছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এই খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১১ সালের ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (প্রোহিবিশন অ্যান্ড রেস্ট্রিকশনস অন সেলস) রেগুলেশনস’-এ সংশোধনের জন্য সম্প্রতি একটি খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, 'দুধ থেকে পাওয়া যায় না এমন উপাদান দিয়ে তৈরি পনির' আর বিক্রি করা যাবে না। এই নতুন নিয়ম চালু হলে, যে সব কোম্পানি ইতিমধ্যেই ‘অ্যানালগ ইন ডেইরি কনটেক্সট’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে, তারা আর নিজেদের পণ্যের নাম, লেবেল বা বিজ্ঞাপনে ‘পনির’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না। এফএসএসআই-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'পনির হিসেবে অ্যানালগ পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন নিয়মটি সংশোধনীতে প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে করে পণ্যটির প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে ভোক্তারা বিভ্রান্ত না হন।'
এফএসএসআই আরও বলেছে, 'যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই ‘অ্যানালগ ইন ডেয়ারি কনটেক্সট’ ক্যাটাগরির অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত, তারা তাদের নামকরণ, লেবেলিং বা বিপণনে ‘পনির’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না।' অ্যানালগ পনির মূলত এমন একটি বিকল্প পণ্য, যাতে দুধের উপাদানের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল, ফ্যাট বা অন্যান্য নন-ডেয়ারি উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। এফএসএসআই আগেও এ ধরনের পণ্যকে সঠিক নামে চিহ্নিত করার উপর জোর দিয়েছে। তবে আপাতত এটিকে চূড়ান্ত দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা বলা যাবে না। এটি একটি খসড়া সংশোধনী। সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত নেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
এর আগে কয়েকটি রাজ্য অবশ্য অ্যানালগ পণ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ করেছে। মহারাষ্ট্রে এক বছরের জন্য অ্যানালগ বা নন-ডেয়ারি পনিরের উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজ্যের ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষায় ৩০৮টি পনির ও ডেয়ারি-অ্যানালগ নমুনার মধ্যে ১০৯টি, অর্থাৎ ৩৫.৪ শতাংশ, নির্ধারিত মান পূরণ করেনি। গুজরাটেও অ্যানালগ পনির, চিজ ও বাটারের উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ, বিতরণ ও বিক্রিতে রাজ্যজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ। অর্থাৎ, এখন নজর এফএসএসআই-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীর পরবর্তী ধাপে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে দুধে তৈরি আসল পনির এবং নন-ডেয়ারি অ্যানালগ পণ্যের মধ্যে নাম ও পরিচয়ের বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানোর লক্ষ্য রয়েছে কেন্দ্রের।
E-Paper

