১০ বছর আমেরিকায় পলাতক! অবেশেষে দেশে ফেরানো হল হরনেক সিংকে, কী অপরাধ তার?

সিবিআই জানিয়েছে, হরনেক সিংকে আমেরিকা থেকে নির্বাসিত করে ভারতে পাঠানো হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরই সিবিআই আধিকারিকরা তাঁকে হেফাজতে নেন।

Published on: Sep 10, 2026, 14:32:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত ও বিচার এড়িয়ে পালিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা থেকে ভারতে ফেরানো হল সেই অভিযুক্ত হরনেক সিংকে। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ২০১৩ সাল থেকে তিনি এই মামলায় পলাতক ছিলেন।

সিবিআই জানিয়েছে, হরনেক সিংকে আমেরিকা থেকে নির্বাসিত করে ভারতে পাঠানো হয়।
সিবিআই জানিয়েছে, হরনেক সিংকে আমেরিকা থেকে নির্বাসিত করে ভারতে পাঠানো হয়।

সিবিআই জানিয়েছে, হরনেক সিংকে আমেরিকা থেকে নির্বাসিত করে ভারতে পাঠানো হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরই সিবিআই আধিকারিকরা তাঁকে হেফাজতে নেন।

কী অভিযোগ হরনেকের বিরুদ্ধে?

এই মামলায় ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, জাল নথি তৈরি এবং সেই জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করার মতো অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

২০১৬ সালে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে সিবিআই। তদন্তে উঠে আসে, ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরে থাকা বা কাজ করা কয়েক জন ভারতীয় নাগরিককে ফোন করেছিল একটি প্রতারণাচক্র।

প্রতারকরা নিজেদের সিঙ্গাপুরের অভিবাসন দফতরের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিত। ফোনে বলা হত, বিমানবন্দরে নামার সময় তাঁরা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। এর জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে এবং তাঁদের সিঙ্গাপুর থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হত।

কী ভাবে চলত প্রতারণা?

ভয় দেখিয়ে ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হত। বলা হত, জরিমানা বা মামলা মেটাতে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হবে। এর পর ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ভারতের নির্দিষ্ট কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠাতে বলা হত।

সিবিআইয়ের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, প্রতারণা করে আদায় করা অর্থের একটি অংশ এমন একটি মানি ট্রান্সফার আউটলেটের মাধ্যমে নেওয়া হত, যেটি হরনেক সিং পরিচালনা করতেন। এই কাজে তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত ছিলেন আদিত্য ভরদ্বাজ এবং দীপক জৈন।

২০১৩-তেই দেশ ছেড়েছিলেন

মামলা শুরু হওয়ার পর হরনেক সিং ২০১৩ সালের মে মাসে ভারত ছেড়ে চলে যান। পরে বেআইনি ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেন বলে তদন্তে জানা যায়। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আমেরিকাতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। এদিকে মামলার অন্য দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

দুই সহ-অভিযুক্তের সাজা

আদিত্য ভরদ্বাজ এবং দীপক জৈনের বিরুদ্ধে পঞ্চকুলার বিশেষ বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা চলে। ২০২৫ সালের ২৬ মে আদালত দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে হরনেক সিংয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকাতেই সমন এবং জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছিল। মার্কিন বিচারবিভাগের মাধ্যমে সেই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। এর পর ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা বা নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট জারি করে পঞ্চকুলার বিশেষ আদালত।

ইন্টারপোলের সাহায্য নেয় সিবিআই

দীর্ঘদিন ধরে হরনেক সিংয়ের কোনও সন্ধান না পাওয়ায় সিবিআই আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁকে ধরার চেষ্টা শুরু করে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পাসপোর্টের ভিত্তিতে লুক-আউট সার্কুলার বা এলওসি জারি করা হয়েছিল। এর ফলে তিনি অন্য কোথাও ভ্রমণ করলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আমেরিকা থেকে ফেরানো হল ভারতে

শেষ পর্যন্ত আমেরিকা তাঁকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতেই সিবিআই তাঁকে আটক করে। এখন তাঁকে হরিয়ানার পঞ্চকুলার বিশেষ বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে। সিবিআই জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

‘ডিজিটাল প্রতারণা’-র পুরনো কৌশল

এই মামলায় প্রতারকদের কৌশল বর্তমান সময়ের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। ফোনে সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানো, মামলা ও গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়—এই ধরনের কৌশল এখনও বহু প্রতারণাচক্র ব্যবহার করছে।

তবে হরনেক সিংয়ের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি প্রায় এক দশক পুরনো। এত বছর আমেরিকায় আত্মগোপন করে থাকার পর তাঁর ভারতে প্রত্যর্পণ সিবিআইয়ের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন আদালতের সামনে তাঁকে পেশ করার পর তদন্ত নতুন গতি পেতে পারে। পাশাপাশি প্রতারণা করে আদায় করা অর্থের পুরো লেনদেন এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সিবিআই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More