নেতানিয়াহুকে টপকে ৬৭ সাংসদের সমর্থন আইজেনকটের, ইজরায়েলে কি এবার সরকার বদল? রবিবার বড় সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড় পালাবদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানালেন সংসদের ৬৭ জন সদস্য।

Published on: Nov 6, 2026, 09:38:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড় পালাবদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানালেন সংসদের ৬৭ জন সদস্য। অন্য দিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল, ইজরায়েলের আরব দলগুলিও আইজেনকটকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী রবিবার, ৮ নভেম্বর, নতুন সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঘোষণা করবেন দেশের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানালেন সংসদের ৬৭ জন সদস্য। (AFP)
গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানালেন সংসদের ৬৭ জন সদস্য। (AFP)

গত ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু কোনও দল বা জোটই একক ভাবে সরকার গঠনের মতো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। সেই আলোচনায় ৬৭ জন সাংসদ আইজেনকটের নাম সুপারিশ করেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেন ৪৬ জন। বাকি সাত জন কোনও পক্ষকেই সমর্থন জানাননি।

তবে ৬৭ জনের সমর্থন পেলেই যে আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন, এমনটা নয়। কারণ, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কোন নেতা বাস্তবে সরকার গড়তে পারবেন, তার উপর। হারজগ জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমনকি একই জোটের দলগুলির মধ্যেও একাধিক বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। তাই আগামী দিনে কয়েক জন দলীয় নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একজোট আরব দলগুলি

আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন বাড়ার পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে ইজরায়েলের আরব দলগুলি। ১১ আসনের জয়েন্ট লিস্ট এবং আট আসনের ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রাম, দু'পক্ষই আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলির হাতে থাকা মোট ১৯টি আসন এখন সরকার গঠনের অঙ্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সমর্থনের ফলে আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। বিরোধী জোটের সব দল আরব দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গড়তে রাজি নয়। বিশেষ করে ইজরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলির সমর্থনের উপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধী। ফলে আইজেনকটের সামনে সংখ্যার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

নেতানিয়াহুর শিবিরেও ফাটল

অন্য দিকে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শরিক দল ইউনাইটেড তোরা জুদাইজ়মও তাঁকে সমর্থন জানায়নি। সাত আসনের এই অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলটি আইজেনকটের নামও সুপারিশ করেনি। মূল বিরোধের জায়গা ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় দেওয়া। নেতানিয়াহু সরকার এই ছাড় বজায় রাখলেও তা স্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন করতে পারেনি। তা নিয়ে শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসাবে ২৭টি আসন পেয়েছে। কিন্তু তাঁর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের মোট আসন ৫৩। অন্য দিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহু-বিরোধী চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।

সরকার গড়ার জন্য ২৮ দিন

ইজরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, তাঁকে প্রথমে ২৮ দিনের সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। অর্থাৎ, সরকার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন পাবেন মনোনীত নেতা। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অন্য কোনও সাংসদকে সুযোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

নতুন সরকার তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন নেতানিয়াহুই। তবে আরব দলগুলির সমর্থন এবং শরিকদের অনীহা তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করেছে। আগামী রবিবার হারজগের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হবে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসানের পথে এগোচ্ছে কি না ইজরায়েল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More