Adani Case in USA: আদানি মামলায় বড় মোড়, অভিযোগ খারিজের পক্ষে আদালতে সওয়াল মার্কিন বিচার বিভাগের

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলায় বিনিয়োগকারীদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি। আদালতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বন্ডগুলির মধ্যে দু'টি পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি দু'টির ক্ষেত্রেও নিয়মিত অর্থ পরিশোধ চলছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি পয়সাও হারাননি। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

Published on: Jul 5, 2026, 10:36:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আরও সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করল মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ১০ পাতার নথিতে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলা শুরু থেকেই আইনি ভিত্তিতে দুর্বল ছিল। শুধু তাই নয়, এই মামলা আমেরিকার কূটনৈতিক স্বার্থেরও পরিপন্থী ছিল এবং বর্তমান প্রশাসনের আইন প্রয়োগের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আরও সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করল মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। (REUTERS)
শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আরও সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করল মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। (REUTERS)

আদালতে ডিওজে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মামলা এক বছর আগেই প্রত্যাহার করা উচিত ছিল, এমনকি প্রথম থেকেই দায়ের করা উচিত হয়নি। বিচার বিভাগের দাবি, অভিযোগের মূল ঘটনা ভারতে ঘটেছে এবং এর তদন্তও ভারতীয় সংস্থাগুলি করেছে। তাই এই মামলায় মার্কিন আদালতের ভূমিকা সীমিত হওয়া উচিত।

২০২৪ সালে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের আমলে গৌতম আদানি-সহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ভারতে সরকারি আধিকারিকদের প্রায় ২৫ কোটি ডলার ঘুষ দিয়ে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ তোলার অভিযোগও আনা হয়েছিল। সেই সময় আদানি গ্রিন এনার্জি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার সংগ্রহ করেছিল বলে দাবি করা হয়।

তবে বর্তমান বিচার বিভাগ বলছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু ভারত। অধিকাংশ সাক্ষী, নথি এবং প্রমাণও ভারতের বাইরে রয়েছে। অভিযুক্তদের মার্কিন আদালতে হাজির করানোও অত্যন্ত কঠিন। ফলে এই মামলার বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা খুবই কম ছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই মামলায় বিনিয়োগকারীদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি। আদালতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বন্ডগুলির মধ্যে দু'টি পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি দু'টির ক্ষেত্রেও নিয়মিত অর্থ পরিশোধ চলছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি পয়সাও হারাননি। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

বিচার বিভাগের মতে, মামলায় যেসব বিবৃতিকে প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, তার অধিকাংশই ছিল সংস্থার সাধারণ প্রচারমূলক বক্তব্য। অভিজ্ঞ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শুধুমাত্র এমন বক্তব্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন, এমন দাবি আদালতে প্রমাণ করা কঠিন।

ডিওজে আরও বলেছে, বিদেশি দুর্নীতি দমন আইন (এফসিপিএ)-এর আওতায় আনা অভিযোগও বর্তমান নীতির সঙ্গে খাপ খায় না। কারণ এই ঘটনায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা, কোনও মার্কিন সংস্থা বা আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এমন মামলায় ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। বিচার বিভাগের মতে, যদি কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন থেকেও থাকে, তা দেওয়ানি মামলার মাধ্যমেই হওয়া উচিত ছিল। উল্লেখ্য, একই ঘটনার ভিত্তিতে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা ইতিমধ্যেই এ বছর নিষ্পত্তি হয়েছে।

আদালতে দাখিল করা নথিতে বিচার বিভাগ আরও দাবি করেছে, আগের প্রশাসন মামলাটি এমন সময়ে প্রকাশ্যে আনে, যখন বাস্তবে বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল না। তাদের মতে, এটি অনেকটাই ‘নাম প্রকাশ করে বদনাম’ করার কৌশল ছিল। পাশাপাশি, আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগের বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও আদালতে জানিয়েছে ডিওজে। এখন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের এই অবস্থান গৌতম আদানি মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More