UNEP: ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের সীমা ছাড়িয়ে যাবে পৃথিবী, রাষ্ট্রসংঘের বিস্ফোরক রিপোর্ট

UNEP: ইউএনইপি-র নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসন সতর্ক করে বলেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে কোনও ভালো পরিণতি নেই। চরম তাপপ্রবাহ এখনই বুঝিয়ে দিচ্ছে জলবায়ুর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

Published on: Sep 2, 2026, 14:14:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

UNEP: পৃথিবী আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত বিশ্ব উষ্ণায়নের ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে যাবে। রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রসংঘের বিস্ফোরক রিপোর্ট (AFP)
রাষ্ট্রসংঘের বিস্ফোরক রিপোর্ট (AFP)

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনলেও, প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে তাপমাত্রা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে হিমবাহ, বরফস্তর ও তুষারপাতের ব্যাপক পরিবর্তন-সহ ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্ব। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে হিমবাহগুলো তাদের এক-চতুর্থাংশ ভর হারাতে পারে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৯ থেকে ১২.৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়বে এবং বিশুদ্ধ জলের তীব্র সংকট দেখা দেবে। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু তারই এক নির্মম উদাহরণ।

ইউএনইপি-র নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসন সতর্ক করে বলেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলে কোনও ভালো পরিণতি নেই। চরম তাপপ্রবাহ এখনই বুঝিয়ে দিচ্ছে জলবায়ুর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে। যার ফলে আরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটবে এবং আরও গভীর বিপর্যয় হবে। তাঁর কথায়, এখনই সময় জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপে আমাদের আরও বেশি জোর দিতে হবে। আমরা সঠিক পথে চলতে পারি—এবং আমাদের চলতেই হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে, সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতা জোরদার করে এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এই অতিক্রমণ যতটা সম্ভব স্বল্প ও স্বল্পস্থায়ী করা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা তা করতে পারি।' তাপমাত্রা বাড়লে হিমবাহ, বরফস্তর, সমুদ্রের বরফ, পারমাফ্রস্ট ও তুষার আচ্ছাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র তাপপ্রবাহ, দাবানল, বন্যা ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে। অ্যান্টার্কটিকা, গ্রিনল্যান্ডের বরফ বা আমাজনের মতো প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলো চিরতরে বদলে যেতে পারে।

‘লিমিটিং ওভারশুট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে-এমন নয়। বরং উষ্ণতা যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ‘অতিক্রম, সর্বোচ্চ বিন্দু ও পতন’ বা ‘সীমা অতিক্রম, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো ও পতন’পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনইপি। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সাম্প্রতিক দাবদাহ ও বন্যাকে ভবিষ্যতের অশনি সংকেত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর পাশাপাশি বাতাস থেকে কার্বন সরিয়ে ফেলার (সিডিআর) কোনো বিকল্প নেই। তবে ইউএনইপি হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশগুলোর বর্তমান জলবায়ু প্রতিশ্রুতি মোটেও পর্যাপ্ত নয়। ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্বন নির্গমন কমার বদলে স্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যোজন যোজন দূরে।