CJP Protest Controversy: CJP-র বিক্ষোভে ‘হিন্দুত্ব মুর্দাবাদ’ স্লোগানের অভিযোগ, ৩০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পানাজির আজাদ ময়দানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

Published on: Oct 19, 2026, 10:12:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে নতুন বিতর্কে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। গোয়ার পানাজিতে গত ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভে ‘হিন্দুত্ব মুর্দাবাদ’ স্লোগান তোলার অভিযোগে ৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই স্লোগানের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ এবং ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে নতুন বিতর্কে ককরোচ জনতা পার্টি (PTI)
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে নতুন বিতর্কে ককরোচ জনতা পার্টি (PTI)

সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো ছড়াতেই অভিযোগ

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পানাজির আজাদ ময়দানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে ধর্মীয় উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলি সামনে আসার পরেই গোটা ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। গোয়ার তালেগাঁওয়ের বাসিন্দা রামপ্রসাদ কেলকার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ভিডিয়োয় বিক্ষোভকারীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের স্লোগান সমাজে অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

পানাজি থানার আধিকারিক বিজয়কুমার চডঙ্কর জানিয়েছেন, বিক্ষোভে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ৩০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। বিক্ষোভের ভিডিয়ো সামনে আসার পরেই তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে সরকার যে কঠোর অবস্থান নেবে, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি।

এ দিকে, বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। আজাদ ময়দানে সভা করার অনুমতি চেয়েও তা পাননি আয়োজকেরা। উত্তর গোয়ার জেলা প্রশাসন পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতে কর্মসূচির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তার পরেও বিক্ষোভ হওয়ার ঘটনায় সাত জনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চে আবেদন করা হয়। ১১ অক্টোবর রাতেই আদালত তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আটক করার প্রক্রিয়া যথাযথ অনুমোদন পেয়েছিল কি না, তা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। ফলে বিক্ষোভকে ঘিরে এক দিকে ধর্মীয় স্লোগানের অভিযোগ, অন্য দিকে পুলিশের পদক্ষেপ, দুটিই আলোচনায় উঠে আসে।

এসআইআর বিতর্কের মধ্যেই নতুন চাপ

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতেও বিক্ষোভ হয়েছে। এ বার গোয়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল।

তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে কারা ওই স্লোগান দিয়েছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেই তদন্তের ফলের দিকেই এখন নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More