E100 Fuel: পেট্রোল ছাড়াই ছুটবে গাড়ি! E100 জ্বালানিতে ছাড়পত্র কেন্দ্রের, কী বদলাবে?

E100 Fuel: সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯-এ সংশোধন করে ই৮৫-এর পাশাপাশি ই১০০-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ই৮৫ ও ই১০০ ব্যবহার করতে পারবে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জ্বালানির জন্য তৈরি ও অনুমোদিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি।

Published on: Oct 26, 2026, 19:00:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

E100 Fuel: কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ভারতে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ইথানল জ্বালানিতে চলতে সক্ষম গাড়ির পথ আরও পরিষ্কার হল। ই১০০ জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে, এমন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির জন্য মোটর ভেহিকেলস রুলসে সংশোধন এনেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। এই সংশোধনের ফলে এই ধরনের গাড়ির জ্বালানি, নির্গমন ও পরীক্ষার নিয়মে ই১০০-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পেট্রোল ছাড়াই ছুটবে গাড়ি! E100 জ্বালানিতে ছাড়পত্র কেন্দ্রের (HT_PRINT)
পেট্রোল ছাড়াই ছুটবে গাড়ি! E100 জ্বালানিতে ছাড়পত্র কেন্দ্রের (HT_PRINT)

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধি (Central Motor Vehicles Rules, 1989) সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সংশোধিত নিয়মে ই৮৫-এর পাশাপাশি ই১০০ জ্বালানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বেশি মাত্রায় ইথানল ব্যবহার করে চলতে সক্ষম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির পরীক্ষা, নির্গমন সংক্রান্ত মান এবং শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম আরও স্পষ্ট হবে। এই পদক্ষেপের ফলে ই৮৫ ও ই১০০ জ্বালানিতে চলার উপযোগী গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির জন্য আইনি কাঠামো আরও পরিষ্কার হল। ভবিষ্যতে ভারতীয় বাজারে এই প্রযুক্তির গাড়ি আনার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে এখনই নিজের পেট্রোল গাড়িতে ই৮৫ বা ই১০০ ভরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই জ্বালানির জন্য গাড়ির ইঞ্জিন ও ফুয়েল সিস্টেম বিশেষভাবে তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্রপ্রাপ্ত হতে হবে।

পুরনো পেট্রোল গাড়িতে ই৮৫ বা ই১০০ ভরতে পারবেন?

না, সাধারণ পেট্রোল বা ই২০-তে চলা গাড়িতে সরাসরি ই১০০ বা ই৮৫ ব্যবহার করা যাবে না। গাড়িটি ই১০০ ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্রপ্রাপ্ত না হলে এই জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত নয়। নিয়মের এই পরিবর্তন সব পেট্রোল গাড়িকে ই১০০ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। এছাড়া ইথানলের পরিমাণ এতটা বেড়ে গেলে গাড়ির ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু পেট্রোলের বদলে ই১০০ বা ই৮৫ ভরে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। গাড়ির ম্যানুয়াল এবং নির্মাতা সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলাই জরুরি।

কী বদল আনল কেন্দ্র?

সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯-এ সংশোধন করে ই৮৫-এর পাশাপাশি ই১০০-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ই৮৫ ও ই১০০ ব্যবহার করতে পারবে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জ্বালানির জন্য তৈরি ও অনুমোদিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি। সংশোধিত বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট হালকা পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ির মোট ওজনের সীমা ৩,০০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ কেজি করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ই৮৫ বা ই১০০ ব্যবহার করা যাবে শুধুমাত্র সেই ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়িতে, যেগুলি নির্মাতা সংস্থা এই জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি করেছে। অর্থাৎ, বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গাড়ির নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক।

কোন কোন সংস্থা তৈরি করছে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি?

ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি। মারুতি সুজুকি WagonR Flex Fuel-কে এই প্রযুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি এই গাড়িটি প্রকাশ্যে আনেন। সংস্থার দাবি ছিল, গাড়িটি ই৮৫ জ্বালানিতে চলতে সক্ষম। এছাড়াও টাটা মোটরস, টয়োটা এবং হুন্ডাইয়ের মতো সংস্থাগুলি ভারতে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ই২০ জ্বালানিতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ইথানল এবং বাকি অংশ পেট্রোল থাকে। কিন্তু ই৮৫-এ ইথানলের পরিমাণ প্রায় ৮৫ শতাংশ। ই১০০-এ তা প্রায় সম্পূর্ণ।