Government on Old Pension Scheme: পুরনো পেনশন স্কিম কি ফিরছে? সংসদে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল কেন্দ্র
অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে সরকারের উপর দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে।
Government on Old Pension Scheme: পুরনো পেনশন স্কিম বা ওল্ড পেনশন স্কিম (OPS) নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনায় আপাতত ইতি টানল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার লোকসভায় কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফের চালু করার কোনও প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন নেই। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে সরকারের উপর দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে।

লোকসভায় দেওয়া জবাবে পঙ্কজ চৌধুরী জানান, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশ — এই পাঁচটি রাজ্য সরকার জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা বা NPS থেকে বেরিয়ে পুরনো পেনশন ব্যবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্তের কথা কেন্দ্র এবং পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা PFRDA-কে জানিয়েছে। তবে রাজ্যগুলির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, কোনও রাজ্যে OPS চালু করা মূলত সেই রাজ্যের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
তবে OPS-এ ফিরে গেলেই NPS-এ জমা থাকা কর্মীদের টাকা রাজ্য সরকারগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, PFRDA Act, 2013 এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যাহার বিধি অনুযায়ী এমন কোনও ব্যবস্থা নেই, যার মাধ্যমে NPS-এ জমা থাকা কর্মী ও সরকারের অবদান এবং তার মাধ্যমে তৈরি হওয়া সঞ্চিত তহবিল রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো যায়।
এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যগুলির জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব পরীক্ষক বা CAG-র সাম্প্রতিক রাজ্য আর্থিক অডিট রিপোর্টেও OPS পুনরায় চালুর আর্থিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পঙ্কজ চৌধুরী।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশনের পরিবর্তে ইতিমধ্যেই ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম বা UPS চালু করেছে কেন্দ্র। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে NPS-এর অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য এটি একটি বিকল্প হিসেবে কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, UPS-এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য কর্মীদের জন্য অবসরের পরে ন্যূনতম মাসিক ১০ হাজার টাকা নিশ্চিত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত সুবিধাও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মূলত ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের জন্য NPS চালু হয়েছিল। সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীরা এর আওতার বাইরে। NPS হল একটি সংজ্ঞায়িত অবদানভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা, যেখানে কর্মী এবং সরকারের নির্দিষ্ট অবদান জমা হয়।
সরকারি কর্মীদের পেনশন সুবিধা আরও উন্নত করার উপায় খুঁজতে তৎকালীন অর্থসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সেই প্রক্রিয়ার ফল হিসেবেই UPS চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ফলে সোমবারের সংসদীয় জবাব থেকে আপাতত স্পষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরছে না। রাজ্যগুলি নিজেদের নীতি অনুযায়ী OPS নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও, NPS-এর জমা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে। কেন্দ্রের অবস্থান এখন স্পষ্ট—OPS নয়, বরং UPS-এর মাধ্যমেই সরকারি কর্মীদের পেনশন সুবিধায় নিশ্চয়তা আনার পথে এগোতে চাইছে সরকার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


