Battery Management Apps: ই-রিকশা অচল করে তোলাবাজি! ৩টি বিশেষ অ্যাপ সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের : সূত্র

Battery Management Apps: সূত্রের খবর, শুধু ‘ব্যাট-বিএমএস’ নয় একই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি থাকা আরও দুটি অ্যাপ 'লসিজি' এবং 'এপস-ই-আয়ন'-কেও অ্যাপ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপব্যবহার করা হচ্ছে এমন অন্য যে কোনও অ্যাপকেও ব্লক করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

Published on: Jul 3, 2026, 15:41:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Battery Management Apps: ফোনের এক ক্লিকেই মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ই-রিকশা! আর এই অচল গাড়ি সচল করার বিনিময়ে চালকদের কাছে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। চিনা অ্যাপ ‘ব্যাট-বিএমএস’-এর বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরেই আসরে নামল কেন্দ্র। নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে এই সংক্রান্ত ৩টি অ্যাপটিকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। হিন্দুস্তান টাইমস-কে এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।

৩টি বিশেষ অ্যাপ সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের (Parveen Kumar/HT)
৩টি বিশেষ অ্যাপ সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের (Parveen Kumar/HT)

সূত্রের খবর, শুধু ‘ব্যাট-বিএমএস’ নয় একই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি থাকা আরও দুটি অ্যাপ 'লসিজি' এবং 'এপস-ই-আয়ন'-কেও অ্যাপ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপব্যবহার করা হচ্ছে এমন অন্য যে কোনও অ্যাপকেও ব্লক করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ইলেকট্রিক যানবাহন, বিশেষত ই-রিকশা কিংবা টোটোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় চালকরা অভিযোগ করছেন, কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের লিথিয়াম ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো আচমকা কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। অভিযোগ, ‘ব্যাট-বিএমএস’ নামক অ্যাপটি ব্যবহার করে রিমোটের মাধ্যমে হ্যাকার বা প্রতারকরা গাড়িগুলো লক করে দিচ্ছে।

যে তিনটি অ্যাপ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো 'লসিজি।' এই অ্যাপটি ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা যে কোনও ই-যানবাহনের অবস্থান শনাক্ত করা যায় এবং মাত্র একটি ট্যাপের মাধ্যমেই সেটিকে অচল বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যায়। হিন্দুস্তান টাইমস এক চালকের অনুমতি নিয়ে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করেছিল এবং একটি চলন্ত ই-রিকশা থামাতে এটি ব্যবহার করে (পরীক্ষা করে) দেখেছিল। চালকদের মতে, ই-রিকশাগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতো। তবে সম্প্রতি মানুষজন চলন্ত ই-রিকশা থামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার পর এই প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অ্যাপগুলো কীভাবে কাজ করে?

এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর পেছনের কার্যপদ্ধতি মূলত ব্লুটুথ ডিভাইসের কাজ করার প্রক্রিয়ার মতোই, তবে এতে কোনও পাসওয়ার্ড বা অথেন্টিকেশন (অনুমোদন প্রক্রিয়া)-এর মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এই সিস্টেমগুলোর কয়েকটিতে ব্লুটুথ সীমার মধ্যে থাকা যে কোনও ব্যক্তি অ্যাপটি ডাউনলোড করে কাছাকাছি থাকা একটি যানের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন এবং মাত্র একটি ট্যাপের মাধ্যমেই এর পাওয়ার বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারেন।

গুগল প্লে স্টোরে ‘ব্যাট-বিএমএস’ অ্যাপটির বিবরণ অনুযায়ী, এটি নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো দিয়ে থাকে:

১. সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্লুটুথ-সুবিধাযুক্ত লিথিয়াম ব্যাটারির সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

২. রিয়েল-টাইমে ব্যাটারির অবস্থা প্রদর্শন করে, যার মধ্যে চার্জ লেভেল, ভোল্টেজ, কারেন্ট, তাপমাত্রা, সাইকেল কাউন্ট এবং সেলের হেলথ অন্তর্ভুক্ত।

৩. ব্যাটারির চার্জ ও ডিসচার্জের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে।

৪. ব্লুটুথ ৫.০ প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৫. ১৫ মিটার পর্যন্ত ওয়্যারলেস রেঞ্জ।

৬. একাধিক ব্যাটারি পর্যবেক্ষণের সুবিধা দেয়; তবে একটি সময়ে কেবল একটি ফোনই একটি ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

সহজ কথায়, ‘ব্যাট-বিএমএস’-এর মতো অ্যাপগুলো মূলত ইভি (বৈদ্যুতিক যানবাহন) ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নজরদারির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এর নেতিবাচক দিকটি হলো, এই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার জন্য কোনও পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় না। এই ত্রুটিটি মূলত স্মার্টফোনগুলোকে এক ধরণের ‘কিল সুইচ’-এ পরিণত করে, যা ই-রিকশা, তাদের চালক এবং যাত্রীদের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, 'সুরক্ষা ও অপব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই পুরো বিষয়টি এখন কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।' ই-রিকশা চালক ও মালিকদের জন্য সরকারের পরামর্শ, অপরিচিত কোনো অ্যাপ ইনস্টল করবেন না এবং ব্যাটারির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্মাতা সংস্থার অনুমোদিত পদ্ধতিই মেনে চলুন।