Sonam Wangchuk's hunger strike: 'চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী...,' সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে বিশেষ বার্তা কেন্দ্রের
Sonam Wangchuk's hunger strike: এদিন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের যেন প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
Sonam Wangchuk's hunger strike: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। আর এই আন্দোলনের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরের একা কুম্ভের মতো অনশন করে চলেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন পড়ল ১৯ দিনে। অনশন মঞ্চ থেকে তিনি জানিয়েছেন, 'আমি ভালো নেই। তবে পরিস্থিতি এখনও এতটাও খারাপ হয়ে যায়নি।' এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছে, অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তাঁর জরুরি চিকিৎসার আবেদন সংক্রান্ত শুনানির সময় কেন্দ্র এই বক্তব্য পেশ করে।

এদিন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের যেন প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের উপর ইতিমধ্যেই সরকারি চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা নজর রাখছেন। তিনি বেঞ্চকে আশ্বস্ত করেন যে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যে কোনও সহায়তা বা চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজন হলে তা দেওয়া হবে। সোনম ওয়াংচুককে আমরণ অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানোর মধ্যেই এই প্রথম আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস দেওয়া হলো। এযাবৎ দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং ইনফ্লুয়েন্সাররা ওয়াংচুকের আন্দোলনে তাঁদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনশনকারী পরিবেশকর্মীর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
'জীবন মূল্যবান'
এদিন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে যে কোনও নাগরিকের জীবনই মূল্যবান। দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে, 'প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।' আবেদনটি নিষ্পত্তি করার সময় আদালত বলে, 'আমরা মাননীয় সলিসিটর জেনারেলের অবস্থানকে সাধুবাদ জানাই এবং নির্দেশ দিচ্ছি যে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা যেন প্রতিদিন চিকিৎসাগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।' আদালত আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি করছিল। ওই আবেদনে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের কাছে ওয়াংচুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল-যার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা এবং প্রয়োজনে জোরপূর্বক খাওয়ানোর মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওয়াংচুকের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার এবং তাঁর স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য তরল খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালতে আরও দাবি করা হয়, সোনম ওয়াংচুকর মৃত্যু হলে তা 'দেশ ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে।'
সোনম ওয়াংচুক কেন অনশন করছেন?
নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন পালন করছেন। এদিকে, সোনমের চিকিৎসা সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সোনমের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর ওজন কমে প্রায় ৫৭ কেজিতে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন কমেছে প্রায় ৪০০ গ্রাম। অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমেছে প্রায় ৮.৯ কেজি। সোনমের রক্তচাপ ১০৫/৭৬ মিমি এইচজি। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি সচেতন ও মানসিকভাবে সজাগ থাকলেও তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
E-Paper

