অষ্টম বেতন কমিশনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে প্রথমবার সংসদে মুখ খুলল কেন্দ্র, দিল কোন বার্তা?

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হতে পারে, তা নিয়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি এবং সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই আবহে প্রথমবার সংসদে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার। 

Published on: Jul 30, 2026, 15:02:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা চলছে। বিশেষ করে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হতে পারে, তা নিয়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি এবং সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই আবহে প্রথমবার সংসদে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তাদের কোনও ভূমিকা নেই। কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা চলছে।
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা চলছে।

রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কমিশন নিজস্ব নিয়ম ও পদ্ধতিতে কাজ করবে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে।

এই প্রশ্নটি তুলেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ জাভেদ আলি খান। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কর্মচারী সংগঠনগুলি কি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ফ্যামিলি ইউনিট'-এর সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করার দাবি জানিয়েছে? পাশাপাশি তিনি জানতে চান, কমিশন কতগুলি বৈঠক করেছে, কোন কোন কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এই দাবিগুলি নিয়ে সরকারের অবস্থান কী।

জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, কমিশনের কার্যপরিধিতে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে তারা সরকারকে নিয়মিত তাদের অগ্রগতি বা অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে জানাবে। ফলে কমিশন এখনও পর্যন্ত কতগুলি বৈঠক করেছে, কোন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বা কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই।

অষ্টম বেতন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এই ফ্যাক্টরের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন, পেনশন এবং অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ফলে এই সংখ্যা যত বেশি হবে, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। আবার কিছু সংগঠন ৩.০ থেকে ৩.৫-এর মধ্যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি অনেক সংগঠন বলছে, বর্তমানে পরিবারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিন সদস্যের পরিবর্তে পাঁচ সদস্যের পারিবারিক ইউনিটকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সরকার অবশ্য এই দাবিগুলির কোনওটির পক্ষেই বা বিপক্ষেও মন্তব্য করেনি। সংসদে দেওয়া উত্তরে শুধু জানানো হয়েছে, কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেবে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়তে পারে।

রিপোর্ট জমা পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার সুপারিশগুলি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আপাতত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, ন্যূনতম বেতন কত বাড়বে বা কর্মচারীদের অন্যান্য দাবি মানা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব আপাতত সম্পূর্ণভাবে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের হাতেই রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More