GST Council Meeting Latest Update: পিছিয়ে গেল জিএসটি পরিষদের বৈঠক, কিন্তু কেন? বৈঠকে কী নিয়ে আসোচনা হওয়ার কথা?
আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে বৈঠকটি এখন সম্ভবত ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। তবে নতুন তারিখ নিয়ে এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকটি আগের মতোই নয়াদিল্লিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি পরিষদের ৫৭তম বৈঠক পিছিয়ে গেল। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে বৈঠকটি এখন সম্ভবত ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। তবে নতুন তারিখ নিয়ে এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকটি আগের মতোই নয়াদিল্লিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ব্রিকস সম্মেলনে একাধিক দেশের শীর্ষ নেতারা যোগ দেওয়ার কারণে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে সেই সময় পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের বৈঠক আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ায় বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মূল বৈঠকের আগে কর দফতরের আধিকারিকদের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা অক্টোবরের শুরুতেই হবে। ৫ অক্টোবর দুপুর ৩টা থেকে এবং ৬ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৭ অক্টোবর পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের মূল বৈঠক হতে পারে। যদিও রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে পরামর্শের পরই চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বৈঠক পিছিয়ে গেলেও আলোচ্যসূচিতে বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ব্যবসা ও শিল্পমহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এবার পরিষদের সামনে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল করের হিসাব থেকে ছাড় পাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত সমস্যা।
বর্তমান নিয়মে কোনও সরবরাহকারী সরকারের কাছে পণ্য ও পরিষেবা কর জমা না দিলে ক্রেতা অনেক সময় নিজের প্রাপ্য করছাড় হারিয়ে ফেলেন। ফলে সরবরাহকারীর ভুল বা অনিয়মের জন্য ক্রেতা সংস্থাকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। নতুন প্রস্তাবে বলা হতে পারে, ক্রেতা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে কর-সহ পুরো টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে বা নির্দিষ্ট নথির সাহায্যে পরিশোধ করা হয়েছে, তাহলে তিনি করছাড় পাওয়ার অধিকার রাখবেন। এতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হতে পারে।
কোম্পানির নামে কর্মীদের ব্যবহারের জন্য কেনা গাড়ির উপর করছাড় পাওয়ার নিয়ম কিছুটা সহজ করার প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। একইভাবে কর্মীদের জন্য কেনা গোষ্ঠী স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনবিমার ক্ষেত্রেও করছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের অনেক খরচের ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয় না।
এছাড়া একই গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দেওয়া কর্পোরেট গ্যারান্টির উপর পণ্য ও পরিষেবা কর কীভাবে হিসাব করা হবে, সেটি নিয়েও স্পষ্ট নিয়ম তৈরির দাবি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই নিয়ম আরও সহজ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ছোট ব্যবসাগুলির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব রয়েছে। একাধিক রাজ্যে ব্যবসা করা ছোট সংস্থাগুলি যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য ও পরিষেবা করের নিবন্ধন নিতে পারে, সেই নিয়ম আরও সহজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এতে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবসা করা সংস্থার নিয়ম মেনে চলার চাপ কমতে পারে। এর পাশাপাশি কর ফেরত, ব্যবহার না হওয়া করছাড় এবং ব্যবসার চলতি মূলধনের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদ হল দেশের পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই পরিষদে বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা থাকেন। করের হার, ছাড় এবং কর সংক্রান্ত প্রশাসনিক নিয়ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই পরিষদেই নেওয়া হয়।
শেষবার পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। তাই ৫৭তম বৈঠক নিয়ে ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ অনেকটাই বেশি। বৈঠক পিছিয়ে গেলেও অক্টোবরের সম্ভাব্য নতুন তারিখে দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধান হবে কি না, এখন সেটাই নজরে রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


