Gyanesh Kumar Latest Update: ২০ বছর পুরনো মৃত্যু মামলা ফের খোলা হল, চাপ বাড়ল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের?

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৬ সালে। সেই সময় কেরলে বাম সরকারের আমল। রাজ্যের একটি দীর্ঘ রাস্তা তৈরির কাজের বরাত পেয়েছিল মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেল। প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটির পাওনা টাকার একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সংস্থার প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আত্মহত্যা করেছিলেন।

Published on: Oct 4, 2026, 11:59:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন চাপের মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। প্রায় ২০ বছর আগের একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। ২০০৬ সালে কেরলের পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকার সময়ের একটি ঘটনা নিয়েই এবার নতুন করে তদন্ত শুরু হতে চলেছে। কেরলের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ভিজিল্যান্স বিভাগ।

New Delhi: Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar along with Election Commissioners Sukhbir Singh Sandhu and Vivek Joshi, during a press conference regarding the Bihar Assembly Elections, at Vigyan Bhavan in New Delhi. (ANI Photo/Jitender Gupta)
New Delhi: Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar along with Election Commissioners Sukhbir Singh Sandhu and Vivek Joshi, during a press conference regarding the Bihar Assembly Elections, at Vigyan Bhavan in New Delhi. (ANI Photo/Jitender Gupta)

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৬ সালে। সেই সময় কেরলে বাম সরকারের আমল। রাজ্যের একটি দীর্ঘ রাস্তা তৈরির কাজের বরাত পেয়েছিল মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেল। প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটির পাওনা টাকার একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় সংস্থাটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক লি সি বিন। টাকা পাওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এর পরই ঘটে যায় অস্বাভাবিক ঘটনা। লি সি বিন আত্মহত্যা করেন। তাঁর রেখে যাওয়া চিঠিতে তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই সূত্র ধরেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তৎকালীন বাম সরকার বিষয়টি ভিজিল্যান্সের হাতে দিয়েছিল। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। কেন তদন্ত থেমে গিয়েছিল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তখন সামনে আসেনি।

দীর্ঘ সময় পরে সেই পুরনো ফাইল ফের সামনে আসে। কেরলের এক কংগ্রেস নেতা বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। সেই আবেদনের পরই রাজ্য সরকার পুরনো মামলার তদন্ত পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালার নির্দেশে এবার ভিজিল্যান্সকে বিস্তারিত ভাবে বিষয়টি পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। আগের তদন্তে কোনও প্রভাব বা চাপ কাজ করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

এই মুহূর্তে অবশ্য জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করতেই ফের তদন্ত হচ্ছে। পুরনো নথি, আগের তদন্তের রিপোর্ট এবং আত্মহত্যার চিঠি সংক্রান্ত তথ্য নতুন করে পরীক্ষা করতে পারে তদন্তকারী দল।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতেও সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। নির্বাচন কমিশন অবশ্য নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদটির একটি বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। তবে সেই সুরক্ষা নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর আগের চাকরিজীবন নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আওতার বাইরে নয়। কেরল সরকারের নতুন পদক্ষেপ তাই রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে পুরনো সেই মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে তদন্তের মুখে আসায় জ্ঞানেশ কুমারের উপর চাপ আরও বাড়ল। দুই দশক আগে থেমে যাওয়া তদন্ত এবার কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More