H-1B Visa Fee Update: H-1B ভিসায় ৯০ লক্ষের বোঝা! আমেরিকায় চাকরির স্বপ্নে বড় ধাক্কা ভারতীয়দের

এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশেষ দক্ষতা থাকা বিদেশি কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ভিসার মাধ্যমে ভারতীয়রা আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন ফি চালু হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের উপর।

Published on: Aug 25, 2026, 10:10:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় পেশাজীবী ও পড়ুয়াদের জন্য বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার সরকার এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন করে ১ লক্ষ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। এই নিয়ম চালু হলে আমেরিকায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে।

আমেরিকার সরকার এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন করে ১ লক্ষ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা।
আমেরিকার সরকার এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন করে ১ লক্ষ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা।

এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশেষ দক্ষতা থাকা বিদেশি কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ভিসার মাধ্যমে ভারতীয়রা আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন ফি চালু হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের উপর।

এই নতুন ফি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকার স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর। তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। প্রথমে প্রস্তাবটি সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হবে। এরপর ৩০ দিন ধরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম মূলত নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে থাকা এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। আমেরিকায় প্রতি বছর এই ধরনের ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এর বাইরে উচ্চশিক্ষার বিশেষ ডিগ্রি থাকা বিদেশিদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা রাখা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মতো নির্দিষ্ট সংস্থার আবেদনে এই অতিরিক্ত ফি লাগবে না।

আমেরিকার সরকারের যুক্তি, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে বিপুল প্রশাসনিক খরচ হয়। সেই খরচের একটি অংশ মেটাতেই নতুন ফি চালু করা হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৮৫ হাজার আবেদন থেকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। এই অর্থ বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রশাসনিক কাজেও ব্যবহার করা হবে।

তবে নতুন প্রস্তাবকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমেরিকায় পড়াশোনা করা বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে। এতদিন আমেরিকায় পড়াশোনা করে সেখানেই চাকরি পেলে এবং ছাত্র ভিসা থেকে এইচ-১বি ভিসায় পরিবর্তন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের পুরনো ফি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন প্রস্তাবে সেই সুবিধা আর থাকবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, কোনও ভারতীয় ছাত্র আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই চাকরি পেলেও তাঁর হয়ে এইচ-১বি ভিসার আবেদন করার সময় নতুন বিপুল ফি দিতে হতে পারে। ফলে আমেরিকায় পড়াশোনা করে সেখানেই চাকরি করার পরিকল্পনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রস্তাব অবশ্য নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, একটি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য এত বিপুল টাকা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা মার্কিন সরকারের রয়েছে কি না। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক খরচের তুলনায় এই ফি অস্বাভাবিক রকম বেশি। ফলে নিয়ম চূড়ান্ত হলে আদালতে মামলা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের ফি চালুর ঘোষণা করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়। এবার তার বদলে আরও বেশি অঙ্কের নতুন ফি আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আমেরিকায় চাকরি করতে চাওয়া ভারতীয়দের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং আমেরিকায় পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের উপর এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের মতামত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে, শেষ পর্যন্ত এই বিপুল ফি চালু হবে কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More