Hafiz Saeed Terrorism Latest Update: কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ? বিস্ফোরক দাবি পাক মৌলবির
পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হল এই হাফিজ সইদ। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক হামলায় তার নাম বার বার সামনে এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত তাকে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বড় মুখ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে।
লস্কর-ই-তইবার প্রধান এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী হাফিজ সইদকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল এক পাক মৌলবি। দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্যে আসা পাক ধর্মীয় বক্তা নাসির মাদনি দাবি করেছে, হাফিজ সইদ কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগস্ট বাহাওয়ালনগরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় এই দাবি করে নাসির। সেই বক্তব্যের ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে জঙ্গি পাঠানোর পুরনো নেটওয়ার্ক নিয়ে।

পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হল এই হাফিজ সইদ। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক হামলায় তার নাম বার বার সামনে এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরেই ভারত তাকে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম বড় মুখ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার নেপথ্যেও এই হাফিজ সইদ ছিল। সেই হামলায় সমুদ্রপথে পাকিস্তান থেকে ১০ জঙ্গি এসে মুম্বইয়ের তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস-সহ একাধিক জায়গায় হত্যালীলা চালিয়েছিল। তিন দিন ধরে চলা সেই হামলায় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ৩০০-রও বেশি মানুষ। এই হামলার পরিকল্পনায় হাফিজ সইদের ভূমিকা ছিল বলে ভারতীয় তদন্তে বার বার দাবি করা হয়েছে।
এদিকে হাফিজের লস্কর-ই-তইবার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে। পরে আমেরিকাও হাফিজ সইদকে সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। সেখানে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই হামলার তদন্তেও হাফিজ সইদের নাম উঠে আসে বলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার ঘটনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে জম্মুর একটি আদালত হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অর্থাৎ ভারতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। ২৬/১১ মামলাতেও হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুম্বই পুলিশ পাকিস্তানে থাকা হাফিজ-সহ কয়েক জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া’ অর্থাৎ অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আদালতে দোষ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
এই আবহে নাসির মাদনির ১০ হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বক্তব্য সত্যি হলে কাশ্মীরে দীর্ঘ দিনের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মাটিতে বসে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়েও চাপ বাড়তে পারে। হাফিজ সইদ ঘিরে ভারতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। তবে এক পাক মঞ্চ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


